নদিয়ার রাজনীতিতে শনিবার ফের বিশেষ গুরুত্ব পেতে চলেছে তাহেরপুর। ছ’বছর আগে যে মাঠ থেকে উদ্বাস্তুদের নাগরিকত্ব নিয়ে বড় প্রতিশ্রুতি শোনা গিয়েছিল, সেই জায়গাতেই আবার হাজির হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সময়টা এমন, যখন ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর ঘিরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে মতুয়া ও উদ্বাস্তু অধ্যুষিত এলাকায়। ফলে এই সফর শুধু প্রশাসনিক কর্মসূচির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, রাজনৈতিক দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা।
শনিবার রানাঘাট লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত তাহেরপুরে প্রশাসনিক সভা ও জনসভা—দু’টিতেই থাকবেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে থাকছেন কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও জাতীয় সড়ক মন্ত্রী নিতিন গডকড়ী। জাতীয় সড়ক সংক্রান্ত একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস রয়েছে কর্মসূচিতে। তবে সভার আগে থেকেই স্থানীয় স্তরে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে এসআইআর। ভোটার তালিকায় নাম থাকা বা বাদ পড়া নিয়ে যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে উদ্বাস্তু জনগোষ্ঠীর মধ্যে, তা নিয়েই এখন সবচেয়ে বেশি কৌতূহল।
বিজেপি সূত্রের দাবি, এসআইআর নিয়ে মতুয়া এলাকায় তৈরি হওয়া উদ্বেগের কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছেও পৌঁছেছে। সেই কারণেই শনিবারের সভা থেকে উদ্বাস্তুদের উদ্দেশে আশ্বাসমূলক বার্তা শোনা যেতে পারে। ছ’বছর আগে তাহেরপুরের মঞ্চ থেকেই সিএএ পাস করানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মোদী, যা পরে বাস্তবায়িত হয়েছে। এবার ফের নাগরিকত্ব সংক্রান্ত প্রশ্ন সামনে আসায়, প্রধানমন্ত্রী কী বলেন, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল। এসআইআর শুরু হওয়ার পর এই প্রথম পশ্চিমবঙ্গে মোদীর সফর হওয়ায় গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
প্রশাসনিক দিক থেকেও সফরটি উল্লেখযোগ্য। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গিয়েছে, তিন হাজার কোটি টাকার বেশি মূল্যের প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করবেন প্রধানমন্ত্রী। কৃষ্ণনগর থেকে বড়জাগুলি পর্যন্ত প্রায় ৬৮ কিলোমিটার জাতীয় সড়ক চার লেন করার কাজ শেষ হয়েছে, যার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে শনিবার। পাশাপাশি বারাসত থেকে বড়জাগুলি পর্যন্ত আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশের শিলান্যাসও রয়েছে। দুপুরের পর রাজনৈতিক সভার মঞ্চে উঠে মোদী কী বার্তা দেন রানাঘাট-বনগাঁ এবং গোটা বাংলার উদ্দেশে, তা নিয়েই মূল আগ্রহ।
আরও পড়ুনঃ Bangladesh Violence : বাংলাদেশের হিংসার ভিডিও, বাংলার ভবিষ্যৎ নিয়ে বিতর্ক—অমিত মালব্যর মন্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৃণমূলের!
তাহেরপুরের আশপাশের ফুলিয়া ও শান্তিপুর তাঁতশিল্পের জন্য পরিচিত এলাকা। ফলে তাঁতশিল্পীদের উদ্দেশেও বিশেষ কোনও বার্তা থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক জনসভাগুলিতে বাঙালির গৌরব, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রসঙ্গ উঠে এসেছে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে। নদিয়ার মাটিতে সেই ধারাবাহিকতায় চৈতন্য মহাপ্রভুর প্রসঙ্গও শোনা যেতে পারে বলে অনুমান। সব মিলিয়ে প্রশাসনিক প্রকল্প, রাজনৈতিক বার্তা এবং এসআইআর ঘিরে আশ্বাস—এই তিনের মেলবন্ধনই শনিবারের তাহেরপুর সভাকে বিশেষ করে তুলছে।





