সীমান্তের ওপারে অশান্তির আগুন জ্বললেও তার প্রভাব যেন এপার বাংলার রাজধানী শহরে না পড়ে—এই লক্ষ্যেই আগেভাগে সতর্ক হল কলকাতা পুলিশ। সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিবেশী দেশের পরিস্থিতি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যেও। বিশেষ করে উৎসবের মরশুমে শহরের নিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখা প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। সেই প্রেক্ষিতেই শনিবার কলকাতা পুলিশের মাসিক ক্রাইম মিটিংয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা।
সূত্রের খবর, বৈঠকে কমিশনার স্পষ্ট করে জানান, বাংলাদেশে চলমান অশান্তির কোনও রকম প্রভাব যাতে কলকাতায় এসে না পড়ে, সেদিকে সর্বোচ্চ নজর রাখতে হবে। তিনি বলেন, সামান্য কোনও উত্তেজনার আভাস পেলেই যেন দেরি না করে তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপ করা হয়। বিশেষ করে শহরের সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে নজরদারি আরও বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আসন্ন এসআইআর সংক্রান্ত শুনানির সময় শহর ও শহরতলির থানাগুলিকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে।
এদিকে, শহর জুড়ে উৎসবের আবহ। বড়দিনের পরেই ফার্স্ট জানুয়ারি—এই সময় কলকাতার রাস্তায় রাতভর ভিড় থাকে। সেই বিষয়টিও উঠে আসে ক্রাইম মিটিংয়ে। পুলিশ কমিশনার থানাগুলিকে স্পষ্ট নির্দেশ দেন, কোনও ভাবেই যেন শ্লীলতাহানি বা মহিলাদের সঙ্গে অভব্য আচরণের ঘটনা না ঘটে। নৈশ পার্টির সময় রাস্তায় টহল বাড়াতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেন তিনি।
নিরাপত্তা সংক্রান্ত আলোচনায় হোটেল ও গেস্ট হাউসগুলির বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। নিয়মিত তল্লাশি ও অভিযান চালাতে স্থানীয় থানাগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শহরে সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাগুলি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন কমিশনার। দাহ্য পদার্থ মজুত রাখা গুদামগুলির লাইসেন্স খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়। কোন এলাকায় কতগুলি গুদাম রয়েছে এবং সেখানে কী ধরনের দাহ্য বস্তু মজুত আছে, তার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ Bangladesh : “গুজবেই প্রাণ গেল দীপুর?” ময়মনসিংহে যুবক খু*নে ‘উস্কানির’ দাবি উড়িয়ে দিল র্যাব!
কমিশনার মনোজ ভার্মা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কোথাও সামান্য অনিয়ম ধরা পড়লেও তা বরদাস্ত করা হবে না। নিয়ম ভাঙলে সংশ্লিষ্ট গুদাম বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। সার্বিকভাবে শহরের আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যে কোনও সম্ভাব্য অশান্তি আগেভাগে ঠেকানোই এখন কলকাতা পুলিশের প্রধান লক্ষ্য। উৎসবের মরশুমে শান্ত ও নিরাপদ কলকাতা বজায় রাখতেই এই কড়া অবস্থান—এমনটাই মনে করছে প্রশাসনিক মহল।






‘ভগবান শুধু আশা দেন, কাজ কিছুই করেন না!’ ঈশ্বরকে নিয়ে বিস্ফো’রক জাভেদ আখতার