বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অস্থিরতার আবহে একের পর এক হিংসার ঘটনা সাধারণ মানুষের মনে গভীর প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে। রাস্তাঘাট, কর্মক্ষেত্র কিংবা সংখ্যালঘু পরিচয়— সব মিলিয়ে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। ঠিক এই প্রেক্ষাপটেই ময়মনসিংহে এক তরুণ শ্রমিকের নির্মম মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ফের আলোচনায় উঠে এল রাষ্ট্রের দায়, বিচারের নিশ্চয়তা এবং সরকারের ভূমিকা।
নিহত যুবকের নাম দীপু দাস, কাপড়কলের শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন তিনি। অভিযোগ, কয়েক জন তাঁকে পিটিয়ে হত্যা করার পর দেহ পুড়িয়ে দেওয়া হয়। ঘটনাটি সামনে আসতেই ক্ষোভ ছড়ায় বিভিন্ন মহলে। এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে মুখ খুলেছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারও। মঙ্গলবার নিহতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে ময়মনসিংহে যান শিক্ষা উপদেষ্টা সিআর আবরার। সেখানেই তিনি এই ঘটনাকে ‘পাশবিক অপরাধ’ বলে উল্লেখ করেন এবং স্পষ্ট করে জানান— এই অপরাধের কোনও অজুহাত হতে পারে না।
পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের পর আবরার জানান, দীপু দাসের স্ত্রী, সন্তান এবং বাবা-মায়ের দায়িত্ব রাষ্ট্র নিচ্ছে। তাঁর কথায়, ‘‘আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কারও নেই। অভিযোগ, রটনা বা বিশ্বাস— কোনও কিছুই হিংসার কারণ হতে পারে না।’’ তিনি আরও জানান, এই বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে এবং ইউনূস নিজেও নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। দীপুর বাবা রবিচন্দ্র দাস উপদেষ্টার কাছে ছেলের হত্যার বিচার দাবি করেন এবং উপার্জনকারী ছেলেকে হারিয়ে তাঁদের বর্তমান দুরবস্থার কথাও তুলে ধরেন।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। ইউনূস সরকারের সংবাদমাধ্যম শাখার তরফে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই দোষীদের বিচার হবে। আবরার বলেন, ‘‘যাঁরা এই অপরাধের সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের কাউকেই রেয়াত করা হবে না। আইন তার পূর্ণ শক্তি প্রয়োগ করবে।’’ একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, কিছু দুষ্কৃতী গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে বিভাজন সৃষ্টি করে অস্থিরতা উস্কে দেওয়ার চেষ্টা করছে, যা রুখতে রাষ্ট্র ও সমাজকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
আরও পড়ুনঃ BJP MLA on Bangladesh : বাংলাদেশ নিয়ে বড় রাজনৈতিক বার্তা! চিকেন নেক বিতর্কের মধ্যেই কড়া অ্যাকশন-এর দাবি তুলে উত্তাল করলেন বিজেপি বিধায়ক!
দীপু হত্যার ঘটনা শুধু বাংলাদেশেই নয়, আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ তৈরি করেছে। ভারত সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। রাষ্ট্রপুঞ্জও এই হিংসার ঘটনায় উদ্বিগ্ন বলে জানিয়েছে। রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিব আন্তোনিয়ো গুতেরেসের মুখপাত্র স্পষ্ট করে বলেন, বাংলাদেশে প্রত্যেক নাগরিকের— বিশেষ করে সংখ্যালঘুদের— নিরাপদ বোধ করার অধিকার রয়েছে। এর আগেই ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠা পরিস্থিতিতে দীপু দাসের মৃত্যু ইউনূস সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। সেই চাপের মধ্যেই এবার নিহত পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা করল অন্তর্বর্তী সরকার— যা ভবিষ্যতে কতটা আস্থা ফেরাতে পারে, সেদিকেই তাকিয়ে দেশবাসী।






