SIR in Bengal : খসড়া ভোটার তালিকা নিয়ে নতুন বিতর্ক—সাংসদের পরিবারের সদস্যদেরও হিয়ারিং নোটিস! অভিযোগ তুলেই প্রশ্নের মুখে কাকলি ঘোষ দস্তিদার!

নির্বাচনী তালিকা সংশোধনের মতো একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সাধারণত নীরবেই এগিয়ে চলে। কিন্তু সেই প্রক্রিয়াই যখন প্রশ্নের মুখে পড়ে, তখন তা রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে। পশ্চিমবঙ্গে চলমান এসআইআর (Special Intensive Revision) ঘিরে ঠিক তেমনই একাধিক প্রশ্ন, বিভ্রান্তি ও ক্ষোভ জমা হচ্ছে। খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর থেকেই বিভিন্ন জায়গা থেকে আসছে নাম বাদ পড়া, ভুল তথ্য কিংবা অস্বাভাবিক নোটিস পাওয়ার অভিযোগ। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি এবার সেই তালিকায় উঠে এলেন একজন সংসদের পরিবারের সদস্যরাও।

এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেস অভিযোগ করে আসছে, গোটা কাজটি অস্বাভাবিক তাড়াহুড়ো করে সম্পন্ন করা হচ্ছে। যেখানে এই ধরনের সংশোধনের জন্য দীর্ঘ সময় প্রয়োজন, সেখানে মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই সব শেষ করার চাপ তৈরি হয়েছে বলে দাবি শাসকদলের। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যেই প্রশ্ন তুলেছেন—যে কাজ করতে দুই বছর সময় লাগে, তা কেন দু’মাসে শেষ করতে হবে? এর মধ্যেই বিভিন্ন জায়গা থেকে উঠে এসেছে খসড়া তালিকায় গুরুতর অসঙ্গতির অভিযোগ।

এই আবহেই নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে বারাসতের তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার-কে ঘিরে। খসড়া ভোটার তালিকায় তাঁর দুই পুত্রের নাম না থাকার অভিযোগ সামনে এসেছে। শুধু তাই নয়, সংশ্লিষ্ট শুনানিতে হাজির হওয়ার জন্য নোটিস পাঠানো হয়েছে তাঁর দুই পুত্রের পাশাপাশি তাঁর মা ও বোনকেও। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই সরব হন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তাঁর প্রশ্ন, একজন চারবারের সাংসদের পরিবারের সদস্যদের যদি এইভাবে ডেকে পাঠানো হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে কী পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে?

এই প্রসঙ্গে কাকলি ঘোষ দস্তিদার জানান, খসড়া তালিকা যাচাই করতে গিয়ে তিনি দেখেন তাঁর দুই ছেলের নাম সেখানে নেই। অথচ তাঁরা সরকারি চাকুরে এবং নিয়মিত ভোটার। তাঁর অভিযোগ, জোর করে নাম বাদ দিয়ে মানুষকে সমস্যায় ফেলার চেষ্টা চলছে। আরও বিস্ময়কর বিষয় হল, তাঁর মা ও বোন অন্য বুথের ভোটার হওয়া সত্ত্বেও তাঁদের নামও খসড়া তালিকায় অনুপস্থিত। প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ, যাঁদের প্রশাসনিক যোগাযোগ সীমিত, তাঁরা শুনানির অর্থই বুঝতে পারছেন না—এই পরিস্থিতিতে তাঁদের হেনস্থা হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন সাংসদ।

আরও পড়ুনঃ Bangladesh : রক কনসার্ট থেকে রণক্ষেত্র! জেমসের শো বন্ধ হতেই কাঁপল বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিসর!

যদিও এই অভিযোগ মানতে নারাজ প্রশাসনের একাংশ। সংশ্লিষ্ট বুথ লেভেল অফিসারের দাবি, সাংসদের পরিবারের সদস্যদের নাম খসড়া তালিকায় রয়েছে এবং অন্য কোনও সংশোধনের কারণেই শুনানির জন্য ডাকা হয়ে থাকতে পারে। অন্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করেছে বিজেপিও। গেরুয়া শিবিরের বক্তব্য, এটি কোনও বিশেষ হেনস্থা নয়, বহু মানুষকেই শুনানিতে ডাকা হয়েছে। তবে রাজনৈতিক তরজা যাই চলুক, এসআইআর প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে যে প্রশ্নগুলো উঠছে, সেগুলিই এখন রাজ্য রাজনীতির অন্যতম আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর