বিশ্ব রাজনীতির মঞ্চে নতুন বছর এলেও বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না ডোনাল্ড ট্রাম্পের। বারবার নিজের অবস্থানে অনড় থেকে তিনি প্রমাণ করছেন, সমালোচনা বা বিরোধিতা তাঁর মত বদলাতে পারে না। আন্তর্জাতিক শান্তি প্রচেষ্টার প্রশ্নে নিজেকে সামনে রাখতেই বরাবরের মতো সরব মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সাম্প্রতিক এক বৈঠকে তাঁর বক্তব্য ঘিরে ফের নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
নতুন বছরের প্রাক্কালে সোমবার ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকে বসেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফ্লোরিডার পাম বিচে তাঁর ব্যক্তিগত বাসভবনে এই বৈঠক হয়। সেখানে আন্তর্জাতিক যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক সাফল্য প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প ফের তুলে ধরেন ভারত-পাক সংঘর্ষবিরতির প্রসঙ্গ। তাঁর বক্তব্য, এই সংঘর্ষ থামাতে ভূমিকা রাখলেও তিনি একেবারেই কৃতিত্ব পাননি।
ট্রাম্পের দাবি, চলতি বছরের মে মাসে অপারেশন সিঁদুরের পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যে সংঘর্ষবিরতি কার্যকর হয়েছিল, তার নেপথ্যে তাঁর উদ্যোগ ছিল গুরুত্বপূর্ণ। শুধু তাই নয়, বিশ্বজুড়ে মোট আটটি যুদ্ধ থামাতে তিনি ভূমিকা রেখেছেন বলেও দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সেই তালিকায় আজারবাইজানের যুদ্ধের কথাও উল্লেখ করেন ট্রাম্প। এমনকি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নাকি তাঁকে বলেছিলেন, বহু চেষ্টা করেও যে কাজ সম্ভব হয়নি, ট্রাম্প একদিনেই তা করে দেখিয়েছেন।
তবে এত দাবি সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক মহলে তাঁর অবদান সেভাবে স্বীকৃতি পায়নি বলেই আক্ষেপ ট্রাম্পের। নোবেল শান্তি পুরস্কারের যোগ্য দাবিদার হিসেবে নিজেকে তুলে ধরলেও শেষ পর্যন্ত সেই পুরস্কার তাঁর হাতে ওঠেনি। তবুও যুদ্ধ থামানোর কৃতিত্ব দাবি থেকে একচুলও সরেননি তিনি। নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও এবং প্রতিরক্ষা সচিব পিটার হেগসেথ—সকলের সামনেই এই অসন্তোষ প্রকাশ করেন ট্রাম্প।
আরও পড়ুনঃ Fire incident : মধ্যরাতে আগুনে ভস্মী*ভূত বিরাটি যদুবাবু বাজার, পুড়ে ছাই প্রায় ২০০ দোকান!
অন্যদিকে, ভারত সরকার শুরু থেকেই স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ভারত-পাক সংঘর্ষবিরতি ছিল সম্পূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সিদ্ধান্ত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সহ একাধিক সরকারি প্রতিনিধি জানিয়ে দিয়েছেন, তৃতীয় কোনও পক্ষের মধ্যস্থতা হয়নি। নয়াদিল্লির এই অবস্থান সত্ত্বেও নিজের দাবিতে অনড় ট্রাম্প। নতুন বছর শুরু হলেও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এই বিতর্ক যে থামছে না, তা আরও একবার স্পষ্ট হয়ে গেল।






