Dilip Ghosh: “পদাধিকারী নই”— আমন্ত্রণ না পাওয়ার ব্যাখ্যার পর হঠাৎ শাহর সভায় দিলীপ ঘোষ, বিজেপির অন্দরে নতুন সমীকরণ?

রাজ্য রাজনীতিতে কিছু উপস্থিতি সবসময়ই আলাদা করে নজর কাড়ে। বিশেষ করে যখন সেই উপস্থিতি দীর্ঘদিনের অনুপস্থিতির পর হয়। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গে এক বৈঠকে দিলীপ ঘোষের উপস্থিতি ঘিরে ঠিক সেই রকমই কৌতূহল তৈরি হয়েছে। ছয় মাসের বেশি সময় ধরে যাঁকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কর্মসূচিতে প্রায় দেখা যাচ্ছিল না, হঠাৎ তাঁর ফের শাহর বৈঠকে উপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

এই প্রশ্নগুলোর পেছনে কারণও রয়েছে। এর আগে আলিপুরদুয়ারে প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদীর সভায় দিলীপ ঘোষকে আমন্ত্রণ না জানানো নিয়ে কম আলোচনা হয়নি। তখন তিনি নিজেই বলেছিলেন, তিনি পদাধিকারী নন বলেই ডাক পাননি। শুধু তাই নয়, গত মে মাসে অমিত শাহর বাংলা সফরেও তাঁর অনুপস্থিতি দলের অন্দরে জল্পনা বাড়িয়েছিল। কেন তাঁকে ডাকা হয়নি, সে বিষয়ে তখন প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলতে চাননি। অথচ রাজ্য স্তরের নেতাদের কাছে রাজ্য দফতর থেকেই নিয়মিত আমন্ত্রণ পৌঁছেছিল।

এই পরিস্থিতিতে দিলীপ ঘোষ ধীরে ধীরে সক্রিয় রাজনীতি থেকে খানিকটা গুটিয়ে নিচ্ছেন বলেই মনে হচ্ছিল অনেকের। কিন্তু গত দু’মাসে ছবিটা বদলাতে শুরু করেছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, সেই বদলের ইঙ্গিত মিলছিল বেশ কিছুদিন ধরেই। রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী প্রকাশ্যে দিলীপ ঘোষের অবদানের কথা উল্লেখ করেন। ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে তাঁর যোগদানের পেছনে দিলীপের ভূমিকার কথাও সামনে আসে। একই সঙ্গে তমলুকের সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের মুখেও শোনা যায় দিলীপ ঘোষের প্রশংসা।

এই আবহেই অমিত শাহর বৈঠকে দিলীপ ঘোষের উপস্থিতিকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। বিজেপির অন্দরে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে—দিলীপ ঘোষকে কীভাবে সাংগঠনিকভাবে আবার কাজে লাগানো যায়। দলের পুরনো কর্মী থেকে শুরু করে সংগঠনের ভিত মজবুত করার ক্ষেত্রে তাঁর অভিজ্ঞতা যে এখনও গুরুত্বপূর্ণ, সে কথা মানছেন অনেকেই।

আরও পড়ুনঃ Bangladesh Hadi Protest:“হাত যে খাওয়ায় তাকে কামড়ানো ঠিক নয়”—ভারতের সাবধানবার্তা, বাংলাদেশে ক্রমশ তীব্র হচ্ছে ভারত-বিরোধী স্লোগান!

সবচেয়ে বড় বিষয়, বাংলায় বিজেপির ইতিহাসে বিধানসভা নির্বাচনে সর্বকালের সেরা ফল এসেছিল দিলীপ ঘোষের সভাপতিত্বকালেই। সেই অভিজ্ঞতা ও মাঠপর্যায়ের সংগঠন গড়ে তোলার দক্ষতা আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলের জন্য কতটা কাজে লাগানো যায়, তা নিয়েই হয়তো স্পষ্ট কোনও দিকনির্দেশ মিলতে পারে শাহর এই বৈঠক থেকে। দিলীপ ঘোষের এই ফিরে আসা কি শুধুই সৌজন্যমূলক, না কি ভবিষ্যৎ নির্বাচনী রণকৌশলের ইঙ্গিত—সেই উত্তরই এখন খুঁজছে রাজ্য রাজনীতি।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles