Bangladesh: “বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা”—খালেদার ‘জানাজা’য় জয়শংকরের উপস্থিতি, বিএনপি ঘনিষ্ঠতায় কি বার্তা দিচ্ছে দিল্লি?

বাংলাদেশের রাজনৈতিক আকাশে এই মুহূর্তে এক অদ্ভুত নীরবতা। একদিকে দীর্ঘদিনের পরিচিত এক রাজনৈতিক অধ্যায়ের অবসান, অন্যদিকে আগামী দিনের সমীকরণ নিয়ে অনিশ্চয়তা। এমন আবহেই ঢাকায় নজর কেড়েছে ভারতের এক গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক উপস্থিতি। প্রকাশ্যে এটি শোকজ্ঞাপনের সফর হলেও, এর নেপথ্যে যে আরও গভীর বার্তা লুকিয়ে রয়েছে, তা বুঝতে পারছেন রাজনীতি ও কূটনীতির ওয়াকিবহাল মহল।

মঙ্গলবার সকালে প্রয়াত হন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। তাঁর মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ বাংলাদেশ। এই শোকের মুহূর্তেই বুধবার সকালে ঢাকায় পৌঁছান ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর। ভারতীয় সময় সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে ভারতীয় বায়ুসেনার বিশেষ বিমানে তিনি অবতরণ করেন বাংলাদেশের বিমানঘাঁটি বাশারে। সেখানে তাঁকে স্বাগত জানান অন্তর্বর্তী সরকারের বিদেশ মন্ত্রকের সচিব এম ফারহাদ হোসেন। সফরের শুরু থেকেই ছিল কড়া নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক প্রোটোকল।

ঢাকায় পৌঁছেই জয়শংকর দেখা করেন খালেদা জিয়ার পুত্র ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের সঙ্গে। সেই সাক্ষাতে তিনি তারেকের হাতে তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পাঠানো শোকপত্র। এটি নিছক সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ নয় বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কারণ বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই সাক্ষাৎ দিল্লির কূটনৈতিক অবস্থানকে স্পষ্ট করে দিচ্ছে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের একাংশের।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন, হিন্দুদের উপর হামলা এবং মৌলবাদী শক্তির বাড়বাড়ন্ত নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে নয়াদিল্লির। জামাতের নেতৃত্বে চলা এই কার্যকলাপের পিছনে পাকিস্তান ও চিনের মদত রয়েছে বলেও ধারণা সাউথ ব্লকের। ইতিমধ্যেই ‘ইনকিলাব মঞ্চ’-এর মতো ভারতবিরোধী সংগঠনের উত্থান সেই আশঙ্কাকে আরও জোরালো করেছে। এই পরিস্থিতিতে আওয়ামি রাজনীতির বাইরে বিকল্প শক্তি হিসেবে বিএনপির দিকেই আপাতত কিছুটা ঝুঁকছে ভারত।

আরও পড়ুনঃ Dilip Ghosh: “পদাধিকারী নই”— আমন্ত্রণ না পাওয়ার ব্যাখ্যার পর হঠাৎ শাহর সভায় দিলীপ ঘোষ, বিজেপির অন্দরে নতুন সমীকরণ?

বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন। শোকবার্তায় তিনি জানান, এই প্রয়াণে তিনি মর্মাহত এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার ও বাংলাদেশের জনগণের প্রতি সমবেদনা জানান। বিশ্লেষকদের মতে, এই শোকবার্তা এবং জয়শংকরের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় উপস্থিতি—দুটিই পরিকল্পিত কূটনৈতিক বার্তা। বিশেষ করে আগামী ফেব্রুয়ারিতে সম্ভাব্য নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে দিল্লি চাইছে এমন এক শক্তিকে সামনে আনতে, যারা মৌলবাদী প্রভাব রুখতে সক্ষম। সেই সমীকরণেই জয়শংকরের এই ঢাকা সফর ভবিষ্যতের ইঙ্গিত বহন করছে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর