গতকাল অর্থাৎ ২০২৫-এর শেষ দিনে দক্ষিণ দমদম পুরসভা ছিল কার্যত উত্তাল। বাইরে থেকে সবকিছু স্বাভাবিক মনে হলেও ভিতরে ভিতরে যে বড়সড় অস্বস্তি জমছিল, তার ইঙ্গিত মিলছিল গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে চাপা গুঞ্জন ছিল—পুরবোর্ডে সব কিছু ঠিকঠাক নেই। সেই জল্পনাই শেষ পর্যন্ত বাস্তব রূপ নিল গত বছরের একেবারে শেষ প্রান্তে এসে। আচমকা এক কাউন্সিলরের পদত্যাগে দক্ষিণ দমদমে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, তৃণমূলের পুরসভা আদৌ কতটা স্থিতিশীল?
এই অস্বস্তির কেন্দ্রে রয়েছেন দক্ষিণ দমদম পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। এলাকায় তিনি শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর ঘনিষ্ঠ হিসেবেই পরিচিত। উল্লেখযোগ্যভাবে, গত পুরভোটে তিনি নির্দল প্রার্থী হিসেবে জয়ী হলেও পরে ফের তৃণমূলে যোগ দেন। সেই দেবাশিসবাবুই এবার কাউন্সিলর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। তাঁর পদত্যাগ ঘিরেই পুরসভা ও দলের অন্দরমহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। কারণ, এই ইস্তফা যে একা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, তার ইঙ্গিত মিলতে শুরু করেছে বিভিন্ন সূত্রে।
দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই স্পষ্ট করেছেন, এই সিদ্ধান্ত হঠাৎ নেওয়া নয়। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই দলের একাংশের তরফে তাঁর বিরুদ্ধে চক্রান্ত চলছিল। সেই চাপ আর সহ্য করতে না পেরেই শেষ পর্যন্ত তিনি পদত্যাগের পথে হাঁটেন। তিনি জানান, বেশ কিছুদিন আগেই তিনি দলের জেলা সভাপতি পার্থ ভৌমিক ও শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর কাছে নিজের পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছিলেন। অবশেষে এসডিও ও পুরসভার চেয়ারম্যানের কাছেও আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন। দেবাশিসবাবুর কথায়, “১৯৯৮ সাল থেকে দল করছি। সিপিএম আমলে মার খেয়েছি, তবু দল ছাড়িনি। কিন্তু এখন দলের মধ্যেই যে ব্যবহার পাচ্ছি, তা আরও বেশি কষ্টের।”
তবে এখানেই থেমে থাকেনি বিষয়টি। দেবাশিসবাবুর পদত্যাগের পরই দক্ষিণ দমদম পুরসভার অন্দরে আরও বড় চাঞ্চল্য ছড়ায়। সূত্রের খবর, একই পুরসভার আরও কয়েকজন তৃণমূল কাউন্সিলরও পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন ইতিমধ্যেই পুরপ্রধান কস্তুরী চৌধুরীর কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। দমদম বিধানসভা এলাকার অন্তর্ভুক্ত ১৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে একাধিক ওয়ার্ড থেকেই এমন ইঙ্গিত মিলছে, যা পুরবোর্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।
আরও পড়ুনঃ Abhishek Banerjee: মাইক্রো অবজারভার নিয়ে তীব্র বিতর্ক, “বাংলার সঙ্গে বিমাতৃসুলভ আচরণ”— কমিশনকে কাঠগড়ায় অভিষেক!
এই পরিস্থিতিতে দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়েছেন দমদম টাউন তৃণমূল সভাপতি ও ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুকান্ত সেনশর্মা। তিনি প্রকাশ্যেই বলেন, দেবাশিসবাবুর অভিযোগ ভিত্তিহীন নয় এবং তাঁরাও একই পথে হাঁটার কথা ভাবছেন। যদিও দেবাশিসবাবু স্পষ্ট করেছেন, কাউন্সিলর পদ ছাড়লেও তিনি দলের কর্মী হিসেবেই কাজ চালিয়ে যাবেন। কিন্তু বছরের শেষে দক্ষিণ দমদম পুরসভায় এই টানাপোড়েন যে তৃণমূলের অন্দরমহলে বড়সড় অস্বস্তির বার্তা দিচ্ছে, তা আর অস্বীকার করার জায়গা নেই।





