Abhishek Banerjee: মাইক্রো অবজারভার নিয়ে তীব্র বিতর্ক, “বাংলার সঙ্গে বিমাতৃসুলভ আচরণ”— কমিশনকে কাঠগড়ায় অভিষেক!

নির্বাচনের আগে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাকে ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু করেছে। ভোটার তালিকা সংশোধন থেকে শুরু করে নজরদারির ধরন—সব মিলিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠছে। ঠিক এই আবহেই দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠকে বসেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠক শেষে তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত, কমিশনের ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয় তৃণমূল।

বুধবারের ওই বৈঠকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ছিলেন দলের আরও ৯ জন সাংসদ। পাঁচ দফা প্রশ্ন নিয়ে তাঁরা নির্বাচন কমিশনের সামনে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক জানান, তাঁদের অধিকাংশ প্রশ্নেরই স্পষ্ট ও সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেনি কমিশন। তাঁর অভিযোগ, বাংলার ক্ষেত্রে যে সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হচ্ছে, সেগুলোর পেছনে যুক্তির ঘাটতি রয়েছে। বিশেষ করে ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ার পরিসংখ্যান সামনে রেখে যে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, তার ব্যাখ্যা কমিশনের তরফে অস্পষ্ট রয়ে গেছে বলে দাবি করেন তিনি।

পরিসংখ্যান তুলে ধরে অভিষেক বলেন, তামিলনাড়ুতে ভোটার তালিকা রিভিশনের হার ১২.৫৭ শতাংশ, ছত্তীসগঢ়ে ৮.৭৬ শতাংশ, গুজরাটে ৯.৯৫ শতাংশ এবং কেরলে ৬.৬৫ শতাংশ। সেখানে বাংলায় সেই হার মাত্র ৫ শতাংশ। তাঁর প্রশ্ন, যেখানে বাংলায় তুলনামূলকভাবে কম সংখ্যক নাম বাদ পড়েছে, সেখানে কেন শুধুমাত্র এই রাজ্যেই মাইক্রো অবজারভার নিয়োগ করা হল? অন্য রাজ্যগুলিতে এই ব্যবস্থা না থাকলেও বাংলার ক্ষেত্রে আলাদা করে নজরদারি কেন—এই প্রশ্নই বৈঠকে বারবার উঠে আসে বলে জানান তিনি।

অভিষেকের আরও অভিযোগ, সিলেক্টিভভাবে বাংলাতেই মাইক্রো অবজারভার ও জেলা পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। কমিশনের তরফে যুক্তি দেওয়া হয়, পর্যাপ্ত অফিসার নেই। কিন্তু তৃণমূল সাংসদের দাবি, অনেক AERO (সহকারী নির্বাচনী রেজিস্ট্রেশন অফিসার) কার্যত বসে রয়েছেন, তাঁদের কাজে লাগানো যেত। এই প্রস্তাবেরও কোনও স্পষ্ট উত্তর কমিশনের তরফে মেলেনি বলে জানান তিনি। এখান থেকেই অভিষেকের অভিযোগ আরও তীব্র হয়—বাংলার সঙ্গে বিমাতৃসুলভ আচরণ করছে নির্বাচন কমিশন।

আরও পড়ুন: Bangladesh: “বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা”—খালেদার ‘জানাজা’য় জয়শংকরের উপস্থিতি, বিএনপি ঘনিষ্ঠতায় কি বার্তা দিচ্ছে দিল্লি?

এছাড়াও রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি ইস্যুতে প্রশ্ন তোলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, যে প্রায় ৫৮ লক্ষ নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের মধ্যে কতজন বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা, তার বিস্তারিত তালিকা প্রকাশ করা হোক। একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বক্তব্য শুনে মনে হয়েছে, বাংলায় এসআইআর প্রক্রিয়া ঠিক কীভাবে চলছে, সে বিষয়ে তাঁর স্পষ্ট ধারণা নেই। অভিষেকের ভাষায়, ওপর থেকে নির্দেশ আসছে, সেই মতো কাজ হচ্ছে—বাংলার বাস্তব পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করা হচ্ছে না। এই বক্তব্যই নতুন করে নির্বাচন কমিশন ও রাজ্য রাজনীতির সংঘাতকে সামনে এনে দিয়েছে।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles