T20 World Cup : আইপিএল ‘অপমান’-এর পালটা জবাব? ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ, শুরু কূটনৈতিক ক্রিকেট রাজনীতি!

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে রাজনীতি আর খেলার সীমারেখা যে দিন দিন ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে, তা নতুন করে প্রমাণিত হচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগেই। মাঠের বাইরের একাধিক সিদ্ধান্ত, প্রশাসনিক টানাপোড়েন ও কূটনৈতিক বার্তা—সব মিলিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার ক্রিকেট এখন প্রবল অস্থিরতার মধ্যে। সাধারণ দর্শকের চোখে বিষয়টি যতটা ক্রিকেট সংক্রান্ত, ভেতরে ভেতরে তা অনেক বেশি সম্মান, নিরাপত্তা ও ক্ষমতার প্রশ্নে গিয়ে ঠেকছে। আর এই আবহেই ধীরে ধীরে সামনে আসছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের এক কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত।

ঘটনার সূত্রপাত মুস্তাফিজুর রহমানকে কেন্দ্র করে। আইপিএলে একটি দলের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ থাকা সত্ত্বেও তাঁকে খেলতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশে ভালোভাবে নেওয়া হয়নি। বিসিবি-র অন্দরমহলে বিষয়টিকে শুধু একজন ক্রিকেটারের সুযোগ কেড়ে নেওয়া হিসেবেই দেখা হয়নি, বরং সেটিকে জাতীয় সম্মানের প্রশ্ন হিসেবেও ধরা হয়েছে। প্রকাশ্যে কিছু না বললেও, বোর্ডের অস্বস্তি যে গভীর ছিল, তা ধীরে ধীরে স্পষ্ট হতে শুরু করে।

এরপর পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয় যখন বাংলাদেশের ইউনূস সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সামাজিক মাধ্যমে নিজের অবস্থান জানান। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, যে দেশে চুক্তিবদ্ধ হয়েও বাংলাদেশের একজন ক্রিকেটার খেলতে পারেন না, সেই দেশে গোটা দলকে পাঠানো কতটা নিরাপদ—তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত ছিল, এই পরিস্থিতিতে ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়ার যৌক্তিকতা নতুন করে ভাবা দরকার। এখানেই প্রথম প্রকাশ্যে আসে বাংলাদেশের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা।

এই মন্তব্যের পরেই রাতারাতি বিসিবি-র জরুরি বৈঠক বসে। সেখানে ক্রীড়া উপদেষ্টার বক্তব্যের সঙ্গে সহমত প্রকাশ করা হয় বলে জানা যায়। সূত্রের খবর, বাংলাদেশ বোর্ড সিদ্ধান্ত নিয়েছে—ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে তারা আগ্রহী নয়। বিকল্প হিসেবে শ্রীলঙ্কার নাম উঠে এসেছে, যেখানেই পাকিস্তান তাদের ম্যাচ খেলতে চলেছে। খুব শিগগিরই এই বিষয়ে আইসিসি-কে চিঠি পাঠানোর প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। এমনকী বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধ করার ভাবনাও আলোচনায় এসেছে।

আরও পড়ুনঃ US Captures Nicolas Maduro: ভোররাতে ৭ বি*স্ফোরণ, আকাশে যুদ্ধবিমান! হঠাৎ নিখোঁজ ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট—ট্রাম্পের দাবিতে চমকে বিশ্ব!

তবে এই সিদ্ধান্ত কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়েই উঠছে বড় প্রশ্ন। বিসিসিআই ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে, মুস্তাফিজুর সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের প্রভাব বিশ্বকাপে পড়বে না। উপরন্তু, আইসিসি-র চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন ভারতের জয় শাহ। ফলে বাংলাদেশ আইসিসি-র কাছে গেলেও আদৌ কতটা সমাধান মিলবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। উলটে, বিশ্বকাপে অংশ না নিলে বাংলাদেশকে বাদ দিয়েই টুর্নামেন্ট এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পথও খোলা থাকছে। বদলা নিতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেরাই কোণঠাসা হয়ে পড়বে না তো বাংলাদেশ—সেই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে বড়।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর