গণতন্ত্রের ভিত্তি যেখানে মানুষের ভোটাধিকার, সেখানে সেই অধিকার নিয়েই প্রশ্ন উঠলে স্বাভাবিকভাবেই অস্বস্তি বাড়ে রাজনৈতিক মহলে। সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্য রাজনীতিতে ঠিক তেমনই এক বিতর্কিত ইস্যু হয়ে উঠেছে এসআইআর বা বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া। প্রথমে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবেই শুরু হলেও, ধীরে ধীরে এই প্রক্রিয়াকে ঘিরে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ, আতঙ্ক ও রাজনৈতিক চাপানউতোর স্পষ্ট হয়ে উঠছে। আর সেই আবহেই গঙ্গাসাগরের মাটি থেকে ফের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মঙ্গলবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় প্রশ্ন তোলেন এসআইআর চালানোর পদ্ধতি নিয়ে। তাঁর অভিযোগ, তাড়াহুড়ো করে এই প্রক্রিয়া চালাতে গিয়ে বহু মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। মমতার দাবি, এতে সাধারণ মানুষ চরম বিপাকে পড়ছেন, বিশেষ করে বয়স্ক ও অসুস্থ নাগরিকদের নানা ভাবে হেনস্থার শিকার হতে হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর কড়া মন্তব্য, “ভুলভাল করছে ইলেকশন কমিশন। বিজেপির আইটি সেল দিয়ে যা করানো হচ্ছে, সেটা বেআইনি।” তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, নল পরিয়ে নিয়ে যাওয়া, বয়স্কদের অযথা ডাকা—এমন একাধিক অভিযোগ।
এই প্রসঙ্গেই মুখ্যমন্ত্রী আরও দাবি করেন, এসআইআর ঘিরে তৈরি হওয়া আতঙ্কের জেরে রাজ্যে ৭০ থেকে ৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং কেউ কেউ আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছেন বলে অভিযোগ। যদিও এই দাবি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে, তবুও বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক চাপ যে ক্রমশ বাড়ছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। মমতার স্পষ্ট বক্তব্য, মানুষের মৌলিক অধিকার নিয়ে কোনও আপস হবে না, এবং এই লড়াই আইনি পথেই এগোবে।
সেই লক্ষ্যেই ইতিমধ্যে পদক্ষেপ নিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে দলের রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেন সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেছেন। দলীয় সূত্রের খবর, মঙ্গলবারই এই মামলার জরুরি শুনানির আবেদন জানানো হবে। আলাদা করে শুনানি হবে, নাকি মূল মামলার সঙ্গে যুক্ত হবে—সে বিষয়ে আজই আদালতের অবস্থান স্পষ্ট হতে পারে। এর আগের দিনও মুখ্যমন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, প্রয়োজনে তিনি নিজেও নাগরিক হিসেবে শীর্ষ আদালতে প্লিড করার অনুমতি চাইবেন।
আরও পড়ুনঃ Pakistani ISI Spy Arrested: ১৫ বছরের কিশোরকে দিয়ে গুপ্তচরবৃত্তি! পাঠানকোটে ISI-এর নোংরা খেলা ফাঁস, আম্বালায় পাক চর ধৃত!
মমতার বক্তব্যে একদিকে যেমন আইনি লড়াইয়ের বার্তা রয়েছে, তেমনই রয়েছে প্রশাসনের উদ্দেশে কঠোর সতর্কতা। তাঁর স্পষ্ট দাবি, এসআইআর হোক, কিন্তু তা হাতে সময় নিয়ে অন্তত দু’বছর ধরে হওয়া উচিত। হঠাৎ করে মানুষের অধিকার “ভ্যানিশ” করা হলে, তার পরিণতি ভাল হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। পাশাপাশি, এদিন বাম আমলের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, গঙ্গাসাগর তীর্থ কর বামফ্রন্ট আমলেই চালু হয়েছিল, এবং তাঁর সরকারই সেই কর তুলে দিয়েছে—যা তাঁর মতে, সাধারণ মানুষের স্বার্থরক্ষারই উদাহরণ।





