নেপাল ও বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ঘিরে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রতিবেশী দুই দেশের অভিজ্ঞতা যে একে অপরের সঙ্গে তুলনার জায়গায় চলে আসতে পারে, তা হয়তো আগে এতটা স্পষ্ট ছিল না। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি বক্তব্য সেই তুলনাকে আরও জোরালো করে তুলেছে। কাঠমান্ডুতে এক অনুষ্ঠানে দেওয়া একটি মন্তব্য ঘিরে এখন আলোচনার কেন্দ্রে নেপালের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী তথা প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সুশীলা কারকি।
এই বক্তব্যের সূত্র ধরে ফের আলোচনায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রসঙ্গ। সেখানে দেড় বছরের বেশি সময় ধরে সহিংসতা চললেও এখনও জাতীয় নির্বাচন হয়নি। ভোটের দিন ঘোষণা হলেও তা নিয়ে সংশয় কাটেনি। এই প্রেক্ষাপটেই নেপালের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কারণ, বাংলাদেশের শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরে নেপালেও জেন-জি আন্দোলনের জেরে কেপি শর্মা ওলি সরকারের পতন ঘটে। সেই সময় দেশজুড়ে তৈরি হয় অনিশ্চয়তা। তখনই অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের দায়িত্ব নেন সুশীলা কারকি।
সম্প্রতি কাঠমান্ডুতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সুশীলা কারকি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “নেপালকে কোনওভাবেই বাংলাদেশ হতে দেওয়া যাবে না।” তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, কীভাবে অন্তর্বর্তী সরকার হিসেবে কাজ করতে গিয়ে প্রতিদিন নানা দিক থেকে চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে তাঁকে। তিনি জানান, রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি জেন-জি তরুণদের একাংশ প্রতিনিয়ত সরকারের পদত্যাগ দাবি করছে। কেউ প্রকাশ্যে, কেউ সোশ্যাল মিডিয়ায় কটূক্তি করছে। তাঁর কথায়, “সরকার ছাড়ার অর্থ কী? কাজ করার সুযোগ দেওয়ার পরই যদি সরে দাঁড়াতে বলা হয়, তা অপমানজনক।”
এরপর আরও কঠোর ভাষায় নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন নেপালের অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রতিদিন প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন তরুণ নানা দাবি নিয়ে সরকারের সামনে হাজির হচ্ছে। কোথাও শান্তিতে কাজ করার পরিবেশ নেই। তবুও সব অপমান ও বাধা সহ্য করে সরকার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে, কারণ তাঁদের লক্ষ্য একটাই—দেশকে স্থিতিশীল অবস্থায় ফেরানো। এই প্রসঙ্গেই তিনি বলেন, “আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যে নেপালকে বাংলাদেশ হতে দেব না। আমরা বাংলাদেশ চাই না।”
আরও পড়ুনঃ Swami Vivekananda Birthday : “স্বামীজি একমাত্র যুবরাজ, অন্য কেউ নন” — দাবি শুভেন্দু অধিকারীর! সিমলা স্ট্রিটে অভিষেকের ‘স্বাগতম যুবরাজ’ পোস্টার ঘিরে তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা!
প্রসঙ্গত, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে জেন-জি আন্দোলনের জেরে নেপালে ব্যাপক গণঅভ্যুত্থান হয় এবং কেপি শর্মা ওলি সরকারের পতন ঘটে। ১২ সেপ্টেম্বর অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয় এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন দেশের প্রথম মহিলা প্রধান বিচারপতি সুশীলা কারকি। শুরুতেই তিনি জানিয়েছিলেন, এই সরকার ছয় মাসের বেশি স্থায়ী হবে না এবং মার্চ মাসে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আগামী ৫ মার্চ নির্বাচন করাতে তৎপর হয়েছেন তিনি। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী পুষ্প কমল দহল, শের বাহাদুর দেউবা এবং কেপি শর্মা ওলির সঙ্গে যোগাযোগ করে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের আর্জি জানিয়েছেন। পাশাপাশি, অন্তর্বর্তী সরকারের যেসব সদস্য নির্বাচনে লড়বেন, তাঁদের পদত্যাগের নির্দেশও দিয়েছেন সুশীলা কারকি। এখন দেখার, এই নির্বাচন নেপালকে কতটা স্থিতিশীলতার পথে ফিরিয়ে আনতে পারে।






