নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মজয়ন্তী মানেই শুধুই স্মরণ নয়, রাজনৈতিক ও সামাজিক বার্তাও উঠে আসে মঞ্চ থেকে। শুক্রবার রেড রোডের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দেশপ্রেমের আবহে শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানে প্রথমদিকে কোনও রাজনৈতিক বক্তব্য না রাখলেও, কিছু সময়ের মধ্যেই তাঁর কথায় উঠে আসে সাধারণ মানুষের জীবনের সঙ্গে জড়িত এক গভীর উদ্বেগ।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন নাম না করে কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার সমালোচনা করেন। নিজের নামের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, বাংলায় তিনি ‘বন্দ্যোপাধ্যায়’ লেখেন, ইংরেজিতে ‘Banerjee’। এই সামান্য পার্থক্য বুঝতে না পারলে সেটাই লজ্জার বিষয়। তাঁর অভিযোগ, নামের বানান, পরিচয়—এই সব বিষয়কে হাতিয়ার করে এক শ্রেণির মানুষকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। বিশেষ করে আদিবাসী ও তফশিলি সম্প্রদায়ের মানুষদের টার্গেট করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এরপর মুখ্যমন্ত্রী আরও স্পষ্ট করে তোলেন তাঁর আপত্তির জায়গা। বাবা-মায়ের জন্ম সার্টিফিকেট চাওয়া, পারিবারিক তথ্য খুঁটিয়ে যাচাই—এই সব প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। মমতার দাবি, তাঁর বাড়িতে কাজ করা এক আদিবাসী মেয়েকেও পরিবারের সবাইকে নিয়ে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। এমনকী নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনকেও ডাকা হয়েছে বাবা-মায়ের বয়সের ফারাক নিয়ে প্রশ্ন তোলার জন্য—এই তথ্য তুলে ধরে বিষয়টির গভীরতা বোঝান তিনি।
এই প্রেক্ষিতেই মুখ্যমন্ত্রীর কণ্ঠে উঠে আসে সবচেয়ে তীব্র মন্তব্য। তিনি বলেন, “এবার কি বিয়ে করবে কি না, সেটাও ঠিক করে দেবে? প্রেম করবে কি না, সেটাও বলবে? বাচ্চা জন্মাবে কি না, সেটাও ওরা ঠিক করে দেবে?” তাঁর এই বক্তব্যে স্পষ্ট অসন্তোষ ও ক্ষোভ ধরা পড়ে। মানুষের ব্যক্তিগত জীবনে হস্তক্ষেপের অভিযোগেই তিনি সরব হন।
আরও পড়ুনঃ হিরণের দ্বিতীয় বিয়ে ঘিরে প্রশ্নবাণ, “মুসলিমদের বহু বিবাহ বিজেপি কি বৈধতা দিল?” মদন মিত্রের মন্তব্যে তুঙ্গে রাজনৈতিক বিতর্ক!
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, শুরু থেকেই তিনি এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে আসছেন এবং তৃণমূল কংগ্রেস এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থও হয়েছে। তবে তাঁর দাবি, এটি রাজনৈতিক লড়াই নয়, মানুষের অস্তিত্ব ও মর্যাদার লড়াই। “একটা মানুষের জীবনের দাম অনেক বেশি,” বলেন তিনি। ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়—এই বার্তা দিয়ে তাঁর বক্তব্য শেষ করেন মুখ্যমন্ত্রী, যা নতুন করে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক উসকে দিয়েছে।






