Bangladesh : হিন্দু ও পুলিশ খুনে*র বিচার বন্ধ! জুলাই আন্দোলনের নামে খুনিদের দায়মুক্তি দিল বাংলাদেশের অন্তর্বতী সরকার!

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আবারও প্রশ্নের মুখে। সাম্প্রতিক অতীতে ঘটে যাওয়া হিংসাত্মক আন্দোলন, প্রাণহানি ও সংখ্যালঘু নির্যাতনের স্মৃতি এখনও তাজা। সেই আবহেই রবিবার রাতে জারি হওয়া একটি অর্ডিন্যান্স নতুন করে বিতর্ক উসকে দিল। সরকারিভাবে বলা হচ্ছে, এটি একটি বিশেষ সময়ের আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত সিদ্ধান্ত। কিন্তু এই ঘোষণার পর থেকেই দেশ-বিদেশে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা ও উদ্বেগ।

বাংলাদেশি সংবাদ সংস্থা ইউনাইটেড নিউজ অফ বাংলাদেশ জানিয়েছে, অন্তর্বতীকালীন সরকার জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত সমস্ত দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে আইনি বৈধতা দিতে এই অর্ডিন্যান্স জারি করেছে। এর অর্থ, ওই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া পুরনো মামলাগুলি বাতিল হবে এবং ভবিষ্যতেও নতুন কোনও মামলা দায়ের করা যাবে না। সরকারের দাবি, এই সিদ্ধান্ত একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক সমাধানের অঙ্গ।

তবে এই অর্ডিন্যান্স ঘিরে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে বিচার নিয়ে। জুলাই-অগাস্টের সেই উত্তাল সময়ে বহু পুলিশকর্মী, আওয়ামি লিগ সমর্থক এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। ঢাকা ট্রিবিউনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই-অগাস্ট বিক্ষোভে অন্তত ৪৪ জন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছিলেন। সেই তালিকায় থানায় হামলা, জ্যান্ত পুড়িয়ে মারার মতো ঘটনাও রয়েছে, যার শিকার হয়েছিলেন হিন্দু পুলিশকর্মীরাও।

হিংসার আগুন শুধু পুলিশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। হাসিনা দেশ ছাড়ার পরের মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর ২০০টির বেশি হামলার অভিযোগ সামনে আসে। খুন, লুটপাট, বাড়িঘর ভাঙচুর থেকে শুরু করে মন্দির ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে আঘাত—সব মিলিয়ে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। এই অর্ডিন্যান্স কার্যকর হলে সেই সব ঘটনার বিচার প্রক্রিয়া কার্যত থমকে যাবে বলেই আশঙ্কা করছেন মানবাধিকার সংগঠনগুলি।

আরও পড়ুনঃ India-EU Mother of All Deals: ভারতে ইউরোপীয় পণ্যের দাম কমবে, ভারতীয় শিল্প ও বাজারে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত হচ্ছে—মোদীর ঘোষণা ঐতিহাসিক চুক্তি সই!

আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে বাংলাদেশের জন্য আরও বড় অস্থিরতার কারণ হতে পারে। কারণ, বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী অন্তর্বতীকালীন সরকারের এমন অর্ডিন্যান্স জারি করার সাংবিধানিক ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাঁদের দাবি, ভবিষ্যতে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এলে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে বিদ্রোহ ও হিংসার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আবারও আইনি পদক্ষেপ করা হতে পারে। ফলে আপাতত ছাড় মিললেও, অনিশ্চয়তার মেঘ থেকেই যাচ্ছে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর