সংসদে পেশ হওয়া কেন্দ্রীয় বাজেট মানেই শুধু আয়-ব্যয়ের হিসেব নয়, বরং চলতি বছরের দিশা। বাজেট ২০২৬ (Union Budget 2026)-এ ঠিক তেমনই এক স্পষ্ট বার্তা দিল কেন্দ্র—প্রযুক্তিতে আত্মনির্ভরতা আর বিশ্ব বাজারে শক্ত অবস্থান। বিশেষ করে ইলেকট্রনিক্স, সেমিকন্ডাক্টর ও রেয়ার আর্থ সেক্টরকে সামনে রেখে যে রূপরেখা এদিন তুলে ধরলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন, তা ভারতের প্রযুক্তি ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এরপরই অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, দেশের প্রযুক্তি সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ শুরু হয়েছে আগেই, এবার সেটিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই লক্ষ্য। সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি জানান, ভারতের সেমিকন্ডাক্টর মিশন ১.০ ইতিমধ্যেই এই সেক্টরে পরিকাঠামো ও দক্ষতা তৈরিতে বড় ভূমিকা নিয়েছে। সেই অভিজ্ঞতার উপর ভর করেই এবার চালু হচ্ছে সেমিকন্ডাক্টর মিশন ২.০। এই নতুন মিশনের মূল লক্ষ্য শুধু চিপ তৈরি নয়, বরং তার সঙ্গে জড়িত যন্ত্রপাতি ও কাঁচামালের দেশীয় উৎপাদন।
এরপর জানা যায় আরও বড় পরিকল্পনার ছবি। কেন্দ্র এবার সম্পূর্ণ ভারতীয় সেমিকন্ডাক্টর আইপি বা ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি ডিজাইনের দিকেও নজর দিতে চাইছে। অর্থাৎ, শুধু উৎপাদন নয়—ডিজাইন, গবেষণা ও সাপ্লাই চেন, সবটাই দেশের মধ্যেই গড়ে তোলার লক্ষ্য। এই সেক্টরে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির জন্য নতুন গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র তৈরির কথাও ঘোষণা করেন নির্মলা সীতারামন, যা ভবিষ্যতে লক্ষ লক্ষ কর্মসংস্থানের পথ খুলতে পারে।
এছাড়াও অর্থমন্ত্রী তুলে ধরেন ইলেকট্রনিক্স কম্পোনেন্ট ম্যানুফ্যাকচারিং স্কিমের অগ্রগতির কথা। গত বছরের এপ্রিলে ২২ হাজার ৯১৯ কোটি টাকা নিয়ে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের বরাদ্দ এবারের বাজেটে বাড়িয়ে ৪০ হাজার কোটি টাকা করার প্রস্তাব দেন তিনি। সরকারের মতে, এই অতিরিক্ত বিনিয়োগ ইলেকট্রনিক্স শিল্পে উৎপাদনের গতি বাড়াবে এবং বিদেশি আমদানির উপর নির্ভরতা কমাতে সাহায্য করবে।
আরও পড়ুনঃ Amit Shah : ব্যারাকপুরে অমিত শাহের বিস্ফোরক হুঁশিয়ার, তৃণমূলের ১৪ ‘দাগি নেতা’-র নাম ফাঁস!
এরপরেই আসে রেয়ার আর্থ ও রাসায়নিক সেক্টরের কথা। গত নভেম্বরে রেয়ার আর্থ পার্মানেন্ট ম্যাগনেট সংক্রান্ত যে স্কিম চালু হয়েছিল, সেটিকে আরও শক্তিশালী করতে ওড়িশা, কেরালা, অন্ধ্রপ্রদেশ ও তামিলনাড়ুর মতো খনিজ-সমৃদ্ধ রাজ্যগুলিকে সহায়তার আশ্বাস দেন অর্থমন্ত্রী। পাশাপাশি ঘোষণা হয় ডেডিকেটেড রেয়ার আর্থ করিডোরের, যা খনন থেকে শুরু করে গবেষণা ও চূড়ান্ত পণ্য তৈরির পথ সহজ করবে। একই সঙ্গে রাসায়নিক আমদানি কমাতে তিনটি ডেডিকেটেড কেমিক্যাল পার্ক তৈরির পরিকল্পনাও জানানো হয়। সব মিলিয়ে Union Budget 2026 স্পষ্ট করে দিল—ভারত আর শুধু প্রযুক্তির বাজার নয়, প্রযুক্তির নির্মাতাও হতে চলেছে।





‘ভগবান শুধু আশা দেন, কাজ কিছুই করেন না!’ ঈশ্বরকে নিয়ে বিস্ফো’রক জাভেদ আখতার