West Bengal SIR : ‘ডিমোশন করলে প্রোমোশন!’ ৭ আধিকারিকের সাসপেনশন ঘিরে কমিশনের সিদ্ধান্তে কড়া আক্রমণ মমতা ব্যানার্জির!

ভোটের আগে প্রশাসনিক পদক্ষেপ ঘিরে উত্তাপ নতুন কিছু নয়। কিন্তু সেই পদক্ষেপ যখন সরাসরি শাসক ও নির্বাচন ব্যবস্থার মুখোমুখি অবস্থান তৈরি করে, তখন তা শুধু রাজনৈতিক বিতর্কেই আটকে থাকে না—প্রশ্ন ওঠে প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও। রাজ্যের সাম্প্রতিক এক সিদ্ধান্ত ঘিরে ঠিক তেমনই এক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের একাধিক আধিকারিককে ঘিরে নেওয়া পদক্ষেপ এখন রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রে।

রবিবার সাত আধিকারিককে সাসপেন্ড করার নির্দেশ জানিয়ে নবান্নে চিঠি পাঠায় নির্বাচন কমিশন। অভিযোগ ছিল, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR প্রক্রিয়ায় অসদাচরণ, গাফিলতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার হয়েছে। ২৪ ঘণ্টা পেরোতে না পেরোতেই কমিশন সরাসরি সাসপেনশনের সিদ্ধান্ত কার্যকর করে। এই সাতজনই সংশোধন প্রক্রিয়ায় এইআরও হিসেবে যুক্ত ছিলেন। কমিশনের তরফে মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে নির্দেশ পাঠানো হয় অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে।

মঙ্গলবার ওই সাত আধিকারিকের পাশে দাঁড়ান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, “যাঁদের ডিমোশন করবে, তাঁদের প্রোমোশন করব।” তিনি অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগই দেওয়া হয়নি। ঘনঘন হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা পাঠিয়ে আলাদা আলাদা নির্দেশ দেওয়ার ফলে ‘টোটাল কনফিউশন’ তৈরি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। যদিও এর আগে চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে রাজ্য এফআইআর দায়েরের পথে হেঁটেছিল— সেই তথ্যও সামনে আসে।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, এসআইআর শুরু হওয়ার পর কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন বাড়ছে। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, এটি আর নির্বাচন কমিশন নয়, বরং ‘সো-কল্ড টর্চার কমিশন’। বিহারে ১১টি নথি গ্রহণযোগ্য হলেও বাংলায় ১৩টি করা হয়েছে কেন— সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। পাশাপাশি হরিয়ানা ও মহারাষ্ট্রের উদাহরণ টেনে দাবি করেন, ভোটের আগে তাড়াহুড়ো করে পদক্ষেপের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ Bihar : যোগীর পথে নীতীশ—উত্তরপ্রদেশ-এর ধাঁচে বিহার-এ খোলা মাংস বিক্রি বন্ধ, লাইসেন্স-নিয়মে তীব্র কড়াকড়ি!

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিজেপির নেত্রী সীমা খান্না কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ৫৮ লক্ষ নাম বাদ দিয়েছেন ভোটার তালিকা থেকে। তাঁর দাবি, বাদ পড়া নামের মধ্যে বহু বৈধ ভোটার রয়েছেন। গোটা পরিস্থিতিকে তিনি ‘থ্রেট কালচার’-এর উদাহরণ বলে উল্লেখ করেন। তবে একই সঙ্গে বলেন, আইন মানতে তাঁদের আপত্তি নেই, কিন্তু নির্দিষ্ট সীমা ছাড়ালে কমিশনকেও ‘ছক্কা খেতে হবে’। রাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝে এখন নজর, পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর