একসময় দিল্লির সংসদ ভবনের করিডরে বসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে তীব্র সমালোচনা করতে শোনা যেত কবীর সুমনকে। সেই সময় তিনি যাদবপুর কেন্দ্রের সাংসদ এবং রাজনৈতিক বক্তব্যে বেশ সরব ছিলেন। বহু সাংবাদিকের সামনেই মমতা সম্পর্কে কঠোর মন্তব্য করতেন তিনি। কিন্তু কয়েক বছরের মধ্যেই তাঁর অবস্থানে বড় পরিবর্তন দেখা যায়। ২০১৬ সালের নির্বাচনের পর একুশে জুলাইয়ের সভায় উপস্থিত হয়ে তিনি বলেছিলেন, এমন দিন আসবে যখন মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে এবং তাঁকে নিয়ে মন্দিরও গড়ে উঠতে পারে।
একুশে জুলাইয়ের সেই বক্তব্যের পর প্রায় এক দশক কেটে গেছে। কিন্তু সেই অবস্থান থেকে আর সরে যাননি কবীর সুমন। শুক্রবার ধর্মতলার সভায় আবারও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে একই সুর। মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান যে তাঁর মতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই বাংলার নেতৃত্বে থাকা উচিত। দীর্ঘ বক্তব্যে তিনি বারবার এই কথাই তুলে ধরেন যে রাজ্যের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য মমতার নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ।
সাম্প্রতিক সময়ে সমাজমাধ্যমেও বিজেপিকে নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করতে দেখা যায় সুমনকে। ধর্মতলার সভাতেও তিনি সেই ধারাই বজায় রাখেন। বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন বিজেপি পরাজিত হবেই। পাশাপাশি মজা করে বলেন বিজেপিকে একটু সান্ত্বনা দেওয়াও উচিত। এরপর তিনি দীর্ঘ সময় ধরে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন কীভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার উন্নয়ন নিয়ে ভাবনা দেখিয়েছেন এবং সেই ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।
২০০৯ সালে লোকসভা নির্বাচনে জিতে সাংসদ হয়েছিলেন কবীর সুমন। কিন্তু ২০১১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর তিনি নানা বিষয়ে তৃণমূল সরকারকে প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছিলেন। কিষেণজি হত্যাকাণ্ড, শিলাদিত্য গ্রেপ্তার, মগরাহাটে পুলিশের গুলি চালানো, ধর্ষণের ঘটনা এবং সিন্ডিকেট ইস্যুতে তিনি গান, ব্যঙ্গ ও বক্তব্যের মাধ্যমে বারবার সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন। সেই সময় তাঁর মন্তব্যে তৃণমূল নেতৃত্ব অস্বস্তিতে পড়েছিল। তবে ২০১৬ সালের নির্বাচনের পর তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানে পরিবর্তন দেখা যায়।
আরও পড়ুনঃ রাম মন্দিরের শহরে ‘বিগ বি’র বড় বিনিয়োগ! ৩৫ কোটির নতুন জমি কিনে চমক অমিতাভ বচ্চনের! এই নিয়ে তিন নম্বর, অযোধ্যায় সম্পত্তির পাহাড় কেন গড়ছেন শাহেনশা?
ধর্মতলার সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এও বলেন যে তিনি মনেপ্রাণে তৃণমূলের মানুষ নন এবং তাঁর কিছু অভিযোগ রয়েছে। তবুও প্রশাসনিক কাজের ক্ষেত্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কৃতিত্ব দেন তিনি। তাঁর মতে বিধানচন্দ্র রায়ের পর দীর্ঘ সময় সফলভাবে রাজ্য পরিচালনা করেছেন মমতাই। উদাহরণ হিসেবে তিনি কলকাতার উন্নয়ন ও পরিকাঠামোর পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করেন। পাশাপাশি ভোটাধিকার নিয়ে চলা বিতর্কেও তিনি মত প্রকাশ করেন এবং বলেন ভোট দেওয়া নাগরিকের মৌলিক অধিকার, তা কেউ কেড়ে নিতে পারে না।





