ভারতের সঙ্গীত জগতের অন্যতম উজ্জ্বল নাম শ্রেয়া ঘোষাল (Shreya Ghoshal)। আজ ১২ মার্চ তাঁর জন্মদিন। ৪২ বছরে পা দিলেন এই জনপ্রিয় গায়িকা। গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে অসংখ্য হিট গান উপহার দিয়ে তিনি কোটি কোটি শ্রোতার হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। তাঁর কণ্ঠে রোম্যান্টিক গান যেমন জনপ্রিয় হয়েছে, তেমনি ক্লাসিক্যাল ঘরানার গানেও মুগ্ধ হয়েছে শ্রোতারা। জন্মদিনের এই বিশেষ দিনে আবারও সামনে এসেছে তাঁর সাফল্য, জনপ্রিয়তা এবং বিপুল সম্পদের গল্প।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, শ্রেয়া ঘোষালের মোট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ২০০০ কোটি টাকা। তাঁর বার্ষিক আয় আনুমানিক ১০ থেকে ১২ কোটি টাকার কাছাকাছি। শুধু সিনেমায় গান গাওয়া নয়, বিভিন্ন কনসার্ট, লাইভ শো এবং রিয়েলিটি শোতেও নিয়মিত অংশ নেন তিনি। একটি গান গাওয়ার জন্য তিনি প্রায় ২৫ লাখ টাকা পারিশ্রমিক নেন বলেই জানা যায়। এই বিশাল পারিশ্রমিকই প্রমাণ করে ভারতীয় সঙ্গীত জগতে তাঁর জনপ্রিয়তা কতটা উঁচুতে পৌঁছেছে।
পুরস্কারের ক্ষেত্রেও শ্রেয়া ঘোষাল এক অনন্য নজির গড়েছেন। তিনি ভারতের দ্বিতীয় গায়িকা, যিনি সবচেয়ে বেশি সেরা মহিলা প্লেব্যাক সিঙ্গারের পুরস্কার জিতেছেন। তাঁর ঝুলিতে রয়েছে পাঁচটি জাতীয় পুরস্কার, যার মধ্যে চারটি এসেছে চারটি ভিন্ন ভাষার গানের জন্য। সঙ্গীতের প্রতি তাঁর নিষ্ঠা এবং অসাধারণ কণ্ঠশৈলী তাঁকে এই সম্মান এনে দিয়েছে। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি বিভিন্ন ভাষায় অসংখ্য জনপ্রিয় গান গেয়ে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন।
গত দুই দশকেরও বেশি সময়ে প্রায় ২০টি ভাষায় ৩ হাজারের বেশি গান গেয়েছেন শ্রেয়া ঘোষাল। তাঁর কণ্ঠে গাওয়া ‘সাইবো’, ‘তেরি ওর’, ‘বরসো রে’, ‘দিওয়ানি মস্তানি’ এবং ‘জাদু হ্যায় নশা হ্যায়’ এর মতো গান আজও শ্রোতাদের প্লেলিস্টে সমান জনপ্রিয়। বলিউড থেকে আঞ্চলিক চলচ্চিত্র, সব ক্ষেত্রেই তাঁর কণ্ঠ এক বিশেষ আবেগ তৈরি করেছে। প্রতিটি গানেই তিনি নিজের স্বতন্ত্র স্টাইল এবং আবেগের ছাপ রেখে গেছেন।
আরও পড়ুনঃ ৯০ বছরেও টগবগে এনার্জি! বয়স শুধু সংখ্যা, বলিউডের ‘মা’ চরিত্রের কিংবদন্তি অভিনেত্রী সুষমা শেঠ আজও হার মানাতে পারেন তরুণীদের! দৈনন্দিন রুটিন শুনলে অবাক হবেন! জানেন, তাঁর ফিট থাকার রহস্য কী?
তবে এই সাফল্যের যাত্রা শুরু হয়েছিল খুব অল্প বয়সেই। মাত্র ১৪ বছর বয়সে তিনি জনপ্রিয় সঙ্গীত প্রতিযোগিতা Sa Re Ga Ma Pa তে অংশ নিয়ে বিজয়ী হন। এরপর পরিচালক Sanjay Leela Bhansali তাঁকে তাঁর ছবি Devdas এ গান গাওয়ার সুযোগ দেন। সেই ছবিতে পাঁচটি গান গেয়েছিলেন শ্রেয়া এবং তার মধ্যে একটি গানের জন্য তিনি জাতীয় পুরস্কার পান। তারপর থেকে আর কখনও পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে, একের পর এক সাফল্যই আজ তাঁর পরিচয়।






