ভোটের আগে রাজ্যের রাজনৈতিক আবহাওয়া ক্রমেই উত্তপ্ত হচ্ছে। একের পর এক অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগে পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যেখানে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়েই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে শাসকদল। বিশেষ করে নির্বাচন ঘনিয়ে আসতেই নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে মানুষের আগ্রহ যেমন বাড়ছে, তেমনই রাজনৈতিক দলগুলির অবস্থানও আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এই প্রেক্ষাপটে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।
শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছিল, তারা মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-এর বিরুদ্ধে অপসারণের প্রস্তাব আনবে। সেই মতোই সংসদের দুই কক্ষ, লোকসভা ও রাজ্যসভায় নোটিস জমা দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, এই প্রস্তাবের পক্ষে ইতিমধ্যেই ১৯৩ জন সাংসদের স্বাক্ষরও সংগ্রহ করেছে তারা। অভিযোগের তালিকায় রয়েছে পক্ষপাতিত্ব এবং অসদাচরণের মতো গুরুতর বিষয়।
এর আগে একাধিকবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। বিশেষ করে এসআইআর ইস্যুতে তাঁর আক্রমণ ছিল সরাসরি। সেই ধারাবাহিকতার মধ্যেই এবার বিষয়টি আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে গিয়ে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু-র কাছে অপসারণের দাবি জানানো হয়েছে। ফলে এই ইস্যু এখন শুধুই রাজনৈতিক বক্তব্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মধ্যেও ঢুকে পড়েছে।
তবে এই প্রস্তাব বাস্তবে কতটা সফল হবে, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণ করতে হলে সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। বর্তমানে ১৯৩ জন সাংসদের সই থাকলেও সেই সংখ্যাটি প্রয়োজনীয় সীমার অনেক নিচে। ফলে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়া সম্ভব হলেও বাস্তবায়ন করা যে সহজ হবে না, তা বলাই যায়।
আরও পড়ুনঃ অরিজিৎ সিংয়ের ছায়া অনুসরণ করেই, বিরতি নিচ্ছেন শ্রেয়া ঘোষালও? প্লেব্যাকের ক্লান্তি, এবার অভিনেত্রী হিসেবে দেখা যাবে গায়িকাকে?
এই প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা ও কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার কটাক্ষ করে জানিয়েছেন, এই প্রস্তাব শেষ পর্যন্ত খারিজ হয়ে যাবে কারণ পর্যাপ্ত সমর্থন নেই। তাঁর মতে, নির্বাচনে জেতার লক্ষ্যেই এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে, ভোটের আগে এই পদক্ষেপ রাজনৈতিক লড়াইকে আরও তীব্র করে তুলেছে আর সেই লড়াইয়ের কেন্দ্রে এখন নির্বাচন কমিশন নিজেই।





