নির্বাচনের আগে বাংলার রাজনৈতিক আবহ দিনে দিনে আরও তপ্ত হয়ে উঠছে। প্রচারের ময়দান যেমন গরম, তেমনই বাড়ছে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের ঝড়। শাসক ও বিরোধী দুই শিবিরই নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে মরিয়া। এই পরিস্থিতিতেই সামনে এল এমন একটি মন্তব্য, যা ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।
এই বিতর্কের সূত্রপাত একটি জনসভা ঘিরে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, ভোটের পর রাজ্যে বিরোধী সমর্থকদের ওপর চাপ সৃষ্টি হতে পারে এমন ইঙ্গিত মিলেছে শাসক শিবিরের বক্তব্যে। যদিও শাসক দল এই অভিযোগকে রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই ব্যাখ্যা করছে। তবুও বিষয়টি দ্রুত গুরুত্ব পেতে শুরু করে এবং তা প্রশাসনিক স্তর পর্যন্ত পৌঁছে যায়।
বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একটি জনসভায় তিনি বলেন, “আমার প্রার্থীকে বলে দিয়ে গিয়েছে, ওকে নাকি গাছে বেঁধে পেটাবে। আমি বলছি, এসব করতে যেও না। নির্বাচনের পরে পোস্টার লাগিয়ে বলতে হবে, আমি বিজেপি করি না।” এই মন্তব্য ঘিরেই বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটারদের মধ্যে ভয় তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এরপরই সরব হয় বিজেপি নেতৃত্ব। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু এবং রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদার নির্বাচন কমিশনের দফতরে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ জানান। তাদের দাবি, এই মন্তব্য নির্বাচন আচরণবিধির পরিপন্থী এবং এতে ভোটারদের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হতে পারে। পাশাপাশি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রচারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির দাবিও তোলা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ “ওখানেই ছিলাম, কিন্তু কিছু করতে পারিনি” কান্নায় ভেঙে পড়লেন অভিনেতার গাড়ি চালক বাবলু দাস, রাহুল অরুণোদয়ের শুটিং দু’র্ঘটনার অন্যতম প্রত্যক্ষ সাক্ষী তিনি! কী জানালেন?
যদিও তৃণমূল কংগ্রেস এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে উড়িয়ে দিয়েছে। শাসক শিবিরের বক্তব্য, বিজেপি রাজনৈতিকভাবে চাপে পড়েই এই ইস্যু তৈরি করছে। তাদের দাবি, বাস্তবে এমন কোনও পরিস্থিতি তৈরি হয়নি, বরং ভোটের আগে বিভ্রান্তি ছড়াতেই এই অভিযোগ করা হচ্ছে। ফলে এই ইস্যু এখন বাংলার নির্বাচনী রাজনীতিতে বড় বিতর্ক হয়ে উঠেছে এবং শেষ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে সকলের।





