একটি ভাইরাল ভিডিও, জনতার ভিড় আর উত্তেজনাপূর্ণ বক্তৃতা, এই তিনের যোগসূত্রেই হঠাৎ করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন এক ব্যক্তি। কালিয়াচকের ঘটনার পর থেকেই যার নাম ঘুরছে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে রাজনৈতিক মহল, সব জায়গাতেই। কিন্তু কে এই মোফাক্কেরুল ইসলাম? কী তাঁর পরিচয়, আর কীভাবে তিনি এত দ্রুত এই বিতর্কের কেন্দ্রে চলে এলেন, সেই প্রশ্নই এখন ঘুরছে সবার মনে।
বুধবার কালিয়াচকের ঘটনার পর একটি ভিডিও সামনে আসে, যেখানে দেখা যায় ভিড়ের মধ্যে একটি গাড়ির উপর দাঁড়িয়ে একজন ব্যক্তি বক্তৃতা দিচ্ছেন। উপস্থিত জনতা তাঁর কথায় হাততালি দিচ্ছেন, অনেকেই মোবাইলে সেই মুহূর্ত বন্দি করছেন। অভিযোগ ওঠে, ওই বক্তব্য ছিল উস্কানিমূলক। ঘটনার পর থেকেই ওই ব্যক্তির আর কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না, যা ঘিরে জল্পনা আরও বাড়তে থাকে।
অবশেষে শুক্রবার সকালে বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয় মোফাক্কেরুল ইসলাম-কে। পুলিশের দাবি, তিনি বেঙ্গালুরু পালানোর চেষ্টা করছিলেন। কালিয়াচকের ঘটনায় বিচারকদের ঘেরাও করার ঘটনায় তাঁর উস্কানি ছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে। ইতিমধ্যেই কালিয়াচক থানার তিনটি মামলায় তাঁর নাম জড়িয়েছে। ইটাহারের বাসিন্দা হয়েও তিনি কেন মালদহে গিয়েছিলেন, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থা।
রাজনীতির বাইরেও মোফাক্কেরুল ইসলামের পরিচয় রয়েছে একজন আইনজীবী হিসেবে। তিনি বর্তমানে কলকাতা হাইকোর্টে প্র্যাকটিস করেন এবং সেখানে তাঁর যথেষ্ট পরিচিতি রয়েছে বলে জানা যায়। ২০২১ সালে তিনি AIMIM-এর প্রার্থী হয়েছিলেন, যদিও পরে সক্রিয় রাজনীতিতে তাঁকে খুব একটা দেখা যায়নি। তবে ২০২৬-এর নির্বাচনে প্রার্থী না হলেও মালদহে দলের কার্যকলাপ বেড়েছে বলেই দাবি। সম্প্রতি রাজ্যে এসেছিলেন দলের প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসি, যা এই প্রেক্ষাপটকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
আরও পড়ুনঃ “গাড়ির ওপর উঠে উস্কানি*মূলক ভাষণ”, মোথাবাড়ির ভাইরাল ভিডিওর নেপথ্যে কে? বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে CID-র জালে মূল অভিযুক্ত,পালানোর চেষ্টা ঘিরে বাড়ছে রহস্য!
গ্রেফতারের আগে নিজেই সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে নিজের পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিয়েছিলেন মোফাক্কেরুল ইসলাম। গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন রাজ্যের ছবি ও ভিডিও পোস্ট করে তিনি যেন অন্যত্র থাকার ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন, কখনও তেলেঙ্গনা, কখনও তামিলনাড়ু, কখনও আবার পাঞ্জাবের আদালতের ছবি। এমনকি কেরল যাওয়ার কথাও উল্লেখ করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে তাঁকে ধরা হয় বাগডোগরা থেকেই। এখন প্রশ্ন একটাই এই ঘটনার পেছনে আসল সত্য ঠিক কী?






