নির্বাচনের আবহ শুরু হতেই বনগাঁ মহকুমায় রাজনৈতিক উত্তাপ দ্রুত বেড়েছে। সোমবার সেই উত্তাপ যেন আরও স্পষ্টভাবে ধরা পড়ল বিজেপির বিশাল শোভাযাত্রায়। কয়েক হাজার কর্মী সমর্থককে সঙ্গে নিয়ে দলীয় চার প্রার্থী মহকুমা শাসকের দপ্তরে মনোনয়ন জমা দেন। এই কর্মসূচিকে ঘিরে সকাল থেকেই এলাকায় উৎসবের পরিবেশ তৈরি হয় এবং রাজনীতির ময়দানে নিজেদের শক্তি দেখাতে কোনও খামতি রাখেনি পদ্ম শিবির।
সকালের পর থেকেই বনগাঁর ১ নম্বর গেট চত্বর ভরে ওঠে মানুষের ঢলে। যশোর রোড ধরে এগোতে থাকে দীর্ঘ মিছিল, যেখানে দলীয় পতাকা, ব্যানার এবং রঙিন ট্যাবলো নজর কেড়েছে সকলের। ঢাকের শব্দ আর স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে চারপাশ। এত বড় জমায়েত সামাল দিতে পুলিশ প্রশাসনও ছিল যথেষ্ট সক্রিয়, যাতে কোনওরকম বিশৃঙ্খলা বা যানজটের সমস্যা না তৈরি হয়।
এই শোভাযাত্রার মধ্যেই নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া মেনে মহকুমা দপ্তরে নিজেদের মনোনয়ন পত্র জমা দেন চার প্রার্থী। গাইঘাটা কেন্দ্র থেকে সুব্রত ঠাকুর, বনগাঁ উত্তর থেকে অশোক কীর্তনীয়া, বনগাঁ দক্ষিণ থেকে স্বপন মজুমদার এবং বাগদা কেন্দ্র থেকে সোমা ঠাকুর প্রার্থী হিসেবে নাম জমা দেন। তাঁদের প্রত্যেকেই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানান, আসন্ন নির্বাচনে ভালো ফল করার ব্যাপারে তাঁরা আশাবাদী।
এদিনের কর্মসূচির অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি। তাঁর উপস্থিতি বিজেপি কর্মী সমর্থকদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করে। তিনি প্রার্থীদের সমর্থনে বক্তব্য রাখার পাশাপাশি কর্মীদের উৎসাহিত করেন এবং সংগঠনকে আরও মজবুত করার বার্তা দেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই উপস্থিতি নির্বাচনী লড়াইয়ে বিশেষ প্রভাব ফেলতে পারে।
স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, এই বিপুল জনসমাগমই প্রমাণ করে দিচ্ছে যে চারটি আসনেই দল যথেষ্ট শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। তাঁদের মতে, সাধারণ মানুষের সমর্থনই এই মিছিলে প্রতিফলিত হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, এই শক্তি প্রদর্শন ভোটের বাক্সে কতটা প্রভাব ফেলে এবং বনগাঁ মহকুমার নির্বাচনী ফলাফলে তার কী প্রতিফলন দেখা যায়।





