ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই রাজ্যের রাজনৈতিক ময়দান উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। সভা, মিছিল, প্রচার সবকিছুতেই এখন বাড়তি তেজ। নেতাদের ভাষণেও সেই উত্তাপ স্পষ্ট। সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছতে এবং নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে একের পর এক কড়া বার্তা ছুড়ে দেওয়া হচ্ছে। উত্তর ২৪ পরগনার মাটিতেও সেই রাজনৈতিক লড়াইয়ের ঝাঁঝ যেন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল।
শুক্রবার নির্বাচনী প্রচারে উত্তর ২৪ পরগনায় একাধিক সভা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। প্রথমে স্বরূপনগরে সভা সেরে তিনি পৌঁছন বসিরহাটে। বসিরহাট উত্তর কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী মহম্মদ তৌসিফুর রহমানের সমর্থনে জনসভায় অংশ নেন তিনি। শুরু থেকেই তাঁর বক্তব্যে ছিল আক্রমণাত্মক সুর, যা মুহূর্তেই রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তোলে।
এই সভা থেকেই বিজেপিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “বিজেপি দু’মুখো সাপ নির্বাচনের সময় একটা ছোবল দেয়, আর নির্বাচনের পর আর একটা।” তাঁর এই মন্তব্য মুহূর্তেই রাজনৈতিক মহলে চর্চার কেন্দ্র হয়ে ওঠে। পাশাপাশি তিনি মানুষের কাছে আবেদন জানান, যদি এই ‘ছোবল’ এড়াতে চান, তাহলে তৃণমূলকেই ভোট দিতে হবে। তাঁর কথায়, বিজেপি এক কথা বলে, আর এক কাজ করে যা সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।
শুধু কটাক্ষেই থেমে থাকেননি মুখ্যমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ তোলেন, বিজেপির পরিকল্পনা রয়েছে এনআরসি চালু করা এবং ডিলিমিটেশনের মাধ্যমে বাংলাকে তিন টুকরো করে দেওয়া। তাঁর বক্তব্য, এই ধরনের পদক্ষেপ রাজ্যের ঐক্য ও সংস্কৃতির জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, বাংলা ভাষায় কথা বলার জন্য অন্য রাজ্যে বাঙালিদের উপর অত্যাচার করা হয় যা নিয়েও তিনি কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব হন।
আরও পড়ুনঃ মাসের শুরুতেই ৩০০০ টাকা! লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পাল্টা বড় চাল বিজেপির, মহিলা থেকে যুব, সবার জন্য টাকার বৃষ্টি! তবে কি এই মেগা প্রতিশ্রুতিতেই বদলে যাবে বাংলার ভোটের সমীকরণ?
সভামঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, তৃণমূলকে একটি ভোট দেওয়া মানেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে জবাব দেওয়া। তিনি রাজ্যের মানুষকে আহ্বান জানান, দিল্লির ‘জমিদারদের’ বিরুদ্ধে লড়াই করতে হলে এই ভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনুপ্রবেশ ইস্যু নিয়েও কেন্দ্রকে নিশানা করে তিনি বলেন, যদি সত্যিই অনুপ্রবেশ ঘটে, তবে তার দায় কেন্দ্রকেই নিতে হবে। সব মিলিয়ে, বসিরহাটের এই সভা থেকে স্পষ্ট ভোটের আগে রাজনৈতিক লড়াই এখন আরও তীব্র আকার নিচ্ছে, আর সেই লড়াইয়ে প্রতিটি বক্তব্যই হয়ে উঠছে বড় অস্ত্র।






