“২০ বছর বিরোধীতায় থাকব, তবু হাত মেলাব না” হুমায়ুন বিতর্কে কড়া বার্তা অমিত শাহর! ভাইরাল ভিডিয়োকে ‘বানানো’ বলে দাবি, মমতাকেও নিশানা, তবে কি এই ভিডিওর আড়ালে আরও বড় রাজনৈতিক খেলা লুকিয়ে রয়েছে, কি জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী?

ভোট যত ঘনিয়ে আসছে, ততই রাজ্যের রাজনৈতিক ময়দানে বাড়ছে চাপানউতোর। একের পর এক অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠছে পরিবেশ। কখনও গোপন আঁতাঁতের অভিযোগ, কখনও আবার ভিডিও ঘিরে বিতর্ক, সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের সামনে তৈরি হচ্ছে এক জটিল রাজনৈতিক চিত্র। এই পরিস্থিতিতে কে সত্য বলছে আর কে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইছে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা আরও ঘনীভূত হচ্ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

সম্প্রতি একটি ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে ঝড় ওঠে। তৃণমূলের তরফে দাবি করা হয়, ওই ভিডিওতে হুমায়ুন কবীরকে বিজেপির সঙ্গে আর্থিক ও রাজনৈতিক সমঝোতার কথা বলতে শোনা গেছে। প্রায় ১৯ মিনিটের সেই ভিডিওতে হাজার কোটি টাকার ডিল এবং নির্বাচনের পর সমর্থনের আশ্বাসের মতো বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে ধরা হয়। যদিও এই ভিডিওর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গিয়েছে, তবুও তা ভোটের আগে বড় অস্বস্তিতে ফেলে দেয় হুমায়ুন এবং তাঁর দলকে।

এই বিতর্কের মধ্যেই মুখ খুললেন আমিত শাহ (Amit Shah)। দলের ইস্তাহার প্রকাশের মঞ্চ থেকে তিনি স্পষ্ট দাবি করেন, এই ভিডিও সম্পূর্ণভাবে বানানো। তাঁর কথায়, এই ধরনের ভিডিও তৈরি করা কোনও বড় বিষয় নয় এবং এর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে। একইসঙ্গে তিনি মমতা বন্দোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে বলেন, এমন হাজার হাজার ভিডিও তৈরি করা সম্ভব। তাঁর এই মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক তর্কের জন্ম দিয়েছে।

শুধু ভিডিওর সত্যতা নিয়েই নয়, হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে বিজেপির সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়েও সরব হন শাহ। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, আদর্শগত দিক থেকে বিজেপি ও হুমায়ুন কবীরের অবস্থান একেবারেই বিপরীত মেরুতে। তাঁর বক্তব্য, যারা বাবরি মসজিদ তৈরি করার কথা বলে, তাদের সঙ্গে কোনওভাবেই হাত মেলাবে না বিজেপি। এমনকি ২০ বছর বিরোধী আসনে বসে থাকাও তাঁদের কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য, এই বার্তাই দিতে চেয়েছেন তিনি। এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক উস্কে দিয়েছে।

এরই মধ্যে হুমায়ুন কবীরকে ঘিরে আরেকটি বড় ধাক্কা আসে, যখন তাঁর জোটসঙ্গী মিম সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নেয়। তারা জানায়, মুসলিম সমাজের আত্মসম্মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এমন কোনও বিতর্কে তারা থাকতে চায় না। ফলে একদিকে ভিডিও বিতর্ক, অন্যদিকে জোট ভাঙা সব মিলিয়ে ভোটের আগে হুমায়ুনের রাজনৈতিক অবস্থান বেশ চাপে পড়েছে। এখন প্রশ্ন উঠছে, এই বিতর্কের প্রভাব কতটা পড়বে নির্বাচনে? আর এই সমস্ত অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের মধ্যে সত্যিটা ঠিক কোথায়, তা কি আদৌ সামনে আসবে?

আরও অন্যান্য খবর