শিলিগুড়ি করিডর নিয়ে মোদির হুঁশিয়ারি, পাল্টা ‘ভারত ভাঙছেন’ তোপ তৃণমূলের, নির্বাচনের আগে কি আরও তীব্র হবে এই রাজনৈতিক সং*ঘাত?

রাজ্যে প্রথম দফার নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই চড়ছে রাজনৈতিক পারদ। উত্তরবঙ্গ থেকে শুরু করে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে প্রচারে ঝাঁপিয়ে পড়েছে সব রাজনৈতিক দল। সভা, পাল্টা সভা, অভিযোগ আর পাল্টা অভিযোগে সরগরম রাজনৈতিক ময়দান। এই আবহেই শিলিগুড়ির সভা ঘিরে নতুন করে তৈরি হয়েছে বিতর্ক, যা এখন রাজ্যের রাজনীতিতে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

রবিবার শিলিগুড়িতে সভা করে শাসকদল তৃণমূলের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ তোলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন, চা বাগানের সমস্যা এবং কেন্দ্রের প্রকল্প নিয়ে একাধিক প্রসঙ্গ। মোদির দাবি, তৃণমূল ইচ্ছাকৃতভাবে উত্তরবঙ্গকে পিছিয়ে রেখেছে এবং কেন্দ্রের বরাদ্দ অর্থ সঠিকভাবে কাজে লাগাতে দেয়নি।

তবে সবথেকে বেশি বিতর্ক তৈরি হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’ মন্তব্য ঘিরে। মোদি অভিযোগ করেন, এই গোষ্ঠী শিলিগুড়ি করিডর বা ‘চিকেনস নেক’ বিচ্ছিন্ন করার হুমকি দিয়েছিল এবং সেই শক্তিকেই তৃণমূল সমর্থন করছে ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির জন্য। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শিলিগুড়ি করিডর শুধু উত্তর-পূর্ব ভারতের গেটওয়ে নয়, দেশের নিরাপত্তার দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এই অঞ্চলের উন্নয়ন ও সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে কেন্দ্র।

প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ে। তিনি দাবি করেন, এই করিডরকে ঘিরে ষড়যন্ত্র চলছে, যা দেশের অখণ্ডতার জন্য হুমকি হতে পারে। পাশাপাশি তাঁর অভিযোগ, তৃণমূলের বাধার কারণে পূর্ব-পশ্চিম করিডরের কাজও সম্পূর্ণ করা যায়নি। এই সমস্ত মন্তব্য ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।

অন্যদিকে তৃণমূলও পাল্টা আক্রমণে কোনও খামতি রাখেনি। দলের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার সরাসরি মোদিকে নিশানা করে বলেন, “ভারতকে টুকরো টুকরো করছেন মোদি।” তাঁর দাবি, বিজেপি নেতারাই বারবার উত্তরবঙ্গ ভাগের প্রসঙ্গ তুলেছেন এবং বিভিন্ন সময়ে এই অঞ্চলের বিভাজনের কথা বলেছেন। ফলে প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য ‘অসঙ্গত’ বলেই দাবি তৃণমূলের। নির্বাচন যত এগোচ্ছে, ততই এই বাকযুদ্ধ আরও তীব্র হবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

আরও অন্যান্য খবর