“বাংলা দখল করতে চাইছে ওরা” বিজেপিকে সরাসরি আক্র*মণ মমতার, সঙ্গে ২২৬ আসনের টার্গেট! এই দাবি কি বাস্তব, নাকি ভোটের আগে বড় রাজনৈতিক বার্তা?

বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ গরম হয়ে উঠছে। শাসক-বিরোধী সব দলই নিজেদের শক্তি প্রদর্শনে ব্যস্ত। একদিকে প্রতিশ্রুতি, অন্যদিকে তীব্র আক্রমণ, সব মিলিয়ে ভোটের আগে একেবারে তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বাংলার রাজনৈতিক ময়দানে। এই পরিস্থিতিতেই একের পর এক সভা করে জনসংযোগ বাড়াচ্ছেন নেতারা। বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গে এখন প্রচারের ঝাঁজ আরও বেড়েছে, যেখানে প্রতিটি সভাই যেন আলাদা করে গুরুত্ব পাচ্ছে।

সোমবার, ১৩ এপ্রিল, দিনের শুরুতেই বীরভূমের সিউড়ি থেকে নিজের প্রচার অভিযান শুরু করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকেই তিনি একাধিক ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সরকারকে নিশানা করেন। একই দিনে আউশগ্রাম, বাঁকুড়া ও দুর্গাপুর এই চারটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে সভা ও কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। এই ম্যারাথন প্রচারের মাধ্যমে একদিকে যেমন সংগঠনকে শক্তিশালী করার বার্তা, তেমনই ভোটের আগে মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা স্পষ্ট।

সিউড়ির সভা থেকেই মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে আক্রমণ করেন। তিনি দাবি করেন, “বাংলাকে দখল করার চেষ্টা চলছে।” পাশাপাশি অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে ব্যবহার করে বিরোধীদের ভয় দেখানো হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রার্থী ও মন্ত্রীদের ফোন করে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে যাতে তারা সমর্থন বদল করে। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কর্মসংস্থান থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি পূরণে কেন্দ্র কতটা সফল হয়েছে।

শুধু আক্রমণই নয়, নিজের সরকারের কাজের খতিয়ানও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে রাজ্যে একাধিক প্রকল্প চালু হয়েছে। শিশুদের জন্য জুতো, বই, ব্যাগ দেওয়ার পরিকল্পনার কথা বলেন। পাশাপাশি দুর্গাপুরে ফ্যাশন ডিজাইন শেখানোর উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন, যেখানে সাধারণ পরিবারের মেয়েরাও সুযোগ পাচ্ছে। ডেউচা পাঁচামি প্রকল্পে বিপুল বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ বেলডাঙায় চলন্ত ট্রেনে পাথরবৃষ্টি! স্টেশনে ঢোকার মুখেই হা*মলা, আত*ঙ্কে যাত্রীরা, কারা টার্গেট করল ধনধান্য এক্সপ্রেস?

এই সব বক্তব্যের মাঝেই সবচেয়ে বড় দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী, ২০২৬ সালের নির্বাচনে তাঁর দল ২২৬টির বেশি আসন পাবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বাইরের শক্তি দিয়ে বাংলাকে দখল করা সম্ভব নয়। পাশাপাশি তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে, দেশের রাজনীতি ও বাংলার রাজনীতির মধ্যে অবস্থান স্পষ্ট করার জন্য। সভার শেষে তাঁর বার্তা ছিল একটাই, এই লড়াই শুধু ভোটের নয়, এটি বাংলার স্বার্থ রক্ষার লড়াই। এখন দেখার, এই আত্মবিশ্বাস ভোটের ফলাফলে কতটা প্রতিফলিত হয় এবং আগামী দিনে রাজনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর