নির্বাচনী আবহে মদের উপর কড়া নজরদারি! ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে বন্ধ দোকান, ফলপ্রকাশের দিনেও নিষেধাজ্ঞা, নিয়ম ভাঙলেই বাতিল লাইসেন্স !

ভোটের আবহ মানেই কড়া নজরদারি, আর সেই তালিকায় এবার নতুন করে গুরুত্ব পেল মদের উপর নিয়ন্ত্রণ। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যাতে কোনও রকম অশান্তি বা অনিয়ম না ঘটে, তার জন্য আগেভাগেই সক্রিয় হয়েছে নির্বাচন কমিশন। ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে প্রশাসনিক তৎপরতা। আর সেই প্রেক্ষিতেই রাজ্যজুড়ে মদ বিক্রির উপর জারি হল কড়া বিধিনিষেধ, যা ইতিমধ্যেই ব্যবসায়ী থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ১৩৫ (সি) ধারা অনুযায়ী ভোটগ্রহণের নির্ধারিত সময়ের ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকেই কার্যকর হবে ‘ড্রাই ডে’। অর্থাৎ এই সময়ের মধ্যে কোনও হোটেল, রেস্তরাঁ, ক্লাব বা লাইসেন্সপ্রাপ্ত দোকানে মদ বিক্রি বা পরিবেশন করা যাবে না। ভোট প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ রাখতে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছে কমিশন।

সূচি অনুযায়ী, প্রথম দফার ভোট ২৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে উত্তরবঙ্গ, জঙ্গলমহল এবং দক্ষিণবঙ্গের মোট ১৫২টি কেন্দ্রে। এই এলাকাগুলিতে ভোটের ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকেই মদের দোকান বন্ধ রাখতে হবে। এরপর দ্বিতীয় দফার ভোট ২৯ এপ্রিল, যেখানে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতে একই নিয়ম কার্যকর হবে। ফলে দুই দফাতেই প্রায় পুরো রাজ্যই এই বিধিনিষেধের আওতায় চলে আসছে।

এখানেই শেষ নয়, ৪ মে ভোট গণনার দিনেও গোটা রাজ্যে মদের দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিশনের মতে, শুধু ভোটের দিন নয়, ফল ঘোষণার দিনেও উত্তেজনা ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে। তাই কোনও ঝুঁকি না নিয়ে আগাম সতর্কতা হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের তরফে ইতিমধ্যেই নজরদারি জোরদার করা হয়েছে, যাতে কোথাও নিয়ম ভাঙার সুযোগ না থাকে।

আরও পড়ুনঃ ‘বাংলার যুবকদের ভবিষ্যৎ নয়, শুধু ভাইপোর নিয়েই ব্যস্ত মমতাদিদি’ কটা*ক্ষ অমিত শাহর! সত্যিই কি উত্তরাধিকার রাজনীতির পথে রাজ্য?

কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, এই নির্দেশ অমান্য করলে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে লাইসেন্স বাতিল পর্যন্ত হতে পারে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার কোনও ঢিলেমি রাখতে নারাজ প্রশাসন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যাতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় থাকে, সেটাই এখন প্রধান লক্ষ্য আর সেই লক্ষ্য পূরণে এই ‘ড্রাই ডে’ গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হয়ে উঠতে চলেছে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর