দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে একটি ভাইরাল ভিডিওকে কেন্দ্র করে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে এক ব্যক্তি নিজেকে কলকাতা পুলিশের কর্মী বলে পরিচয় দিয়ে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। যদিও ভিডিওটির সত্যতা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই করা হয়নি, তবুও এর বক্তব্য ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল ও উদ্বেগ দুটোই বেড়েছে। ইতিমধ্যেই এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি একটি ফেসবুক পেজ থেকে সামনে আসে, যেখানে দেখা যায় খাকি পোশাক পরা এক ব্যক্তি নিজেকে ‘রামকৃষ্ণ কয়াল’ নামে পরিচয় দিচ্ছেন। তিনি দাবি করেন, তিনি দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে কলকাতা পুলিশের সঙ্গে যুক্ত এবং এখনও তার কর্মজীবনের বেশ কয়েক বছর বাকি রয়েছে। ভিডিওতে তিনি বলেন, তার চাকরির জীবনের একটি বড় অংশ তৃণমূল সরকারের আমলেই কেটেছে এবং সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তিনি কিছু কথা প্রকাশ্যে আনতে বাধ্য হয়েছেন।
এরপরই তিনি একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ করেন। তার দাবি, প্রশাসনের ভেতরে নাকি একটি নির্দিষ্ট ধর্মকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে এবং হিন্দুদের উপর চাপ সৃষ্টি করে ধর্ম পরিবর্তনের জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে। এই অভিযোগের কোনও সরকারি প্রমাণ এখনও সামনে না এলেও, ভিডিওতে তার বক্তব্য অনেকের মধ্যেই উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে নির্বাচনের মুখে এমন মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।
শুধু অভিযোগ করেই থেমে থাকেননি ওই ব্যক্তি। তিনি ভিডিওতে সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন জানান, আসন্ন ভোটে এমন সিদ্ধান্ত নিতে যাতে সরকারের পরিবর্তন ঘটে। নিজের পরিচয় দিতে গিয়ে তিনি বলেন, তিনি একজন ‘দলদাস পুলিশ’ হিসেবে এতদিন কাজ করেছেন, কিন্তু এখন তিনি সত্য কথা সামনে আনতে চান। তার বক্তব্য অনুযায়ী, প্রশাসনের ভেতরে দ্রুত পরিবর্তন না এলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
এই ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও শুরু হয়েছে। বিরোধী দল বিজেপির কিছু নেতা এই ঘটনাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন এবং ওই ব্যক্তির বক্তব্যকে সমর্থন করছেন। অন্যদিকে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের আগে এ ধরনের ভিডিও ও অভিযোগ সাধারণ মানুষের মনে প্রভাব ফেলতেই পারে।
আরও পড়ুনঃ ফের মুম্বইয়ে নতুন ফ্ল্যাট কিনলেন শ্রেয়া ঘোষাল! কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে, কত কোটি টাকা দিয়ে এই বিলাসবহুল সম্পত্তি কিনলেন গায়িকা?
ইতিমধ্যেই লালবাজার সূত্রে জানা গিয়েছে, ভিডিওতে দেখা ওই ব্যক্তিকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানা গেছে। পুরো ঘটনাটি এখন তদন্তাধীন, এবং ভিডিওর সত্যতা যাচাই না হওয়া পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো কঠিন। তবে এতটুকু স্পষ্ট যে, নির্বাচনের আবহে এই ভিডিও নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে এবং আগামী দিনে এই ইস্যু আরও বড় আকার নিতে পারে।






