২০২৩ সালের ২৯ মার্চ, টলিপাড়ার ইতিহাসে একটি শোকাবহ দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মর্মান্তিক মৃত্যুতে গোটা টলিপাড়া শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে। শুটিংয়ের সেটে এই দুর্ঘটনা ঘটার পর থেকেই টলিপাড়ার কলাকুশলীরা তাদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর চিন্তা শুরু করেন। শিল্পীদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে তারা প্রতিবাদে শামিল হন এবং একাধিক উদ্যোগ নেন। সেই সময় থেকেই টলিপাড়া একসঙ্গে কাজ করার কথা ভাবতে থাকে, যাতে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা না ঘটে।
৭ এপ্রিল টলিপাড়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে শিল্পী এবং কলাকুশলীদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। ফেডারেশন, ইম্পা, আর্টিস্ট ফোরাম এবং প্রযোজনা সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে চূড়ান্তভাবে একটি SOP (স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর) তৈরির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই বৈঠকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যার মধ্যে বিমা আবশ্যক করার বিষয়টি অন্যতম। এদিন শিল্পী এবং কলাকুশলীদের জন্য বিমা ব্যবস্থা তৈরি করার জন্য সকল পক্ষই সম্মত হয়, এবং ১৫ দিনের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করতে বলা হয়। প্রযোজনা সংস্থা এবং চ্যানেলদের সঙ্গে কথাবার্তা চালিয়ে যাওয়া হবে বলে জানানো হয়।
এছাড়া ৭ এপ্রিলের বৈঠকে স্বরূপ বিশ্বাস জানিয়ে ছিলেন, “আমরা প্রায় ৮০ শতাংশ দাবি মেনে নিয়েছি এবং ২০ শতাংশের কাজ এখনও কিছু টেকনিক্যাল দিক থেকে বাকি রয়েছে। তবে খুব শীঘ্রই তা সমাধান হবে।” অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তও একই কথা বলেছিলেন, “বিমা এবং ক্ষতিপূরণ নিয়ে প্রযোজকদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। শুটিং-এর নিরাপত্তা বাড়াতে আমাদের মধ্যে একটি ঐক্য তৈরি হয়েছে।” সেই বৈঠক থেকে স্পষ্ট হয়েছিল, শিল্পীদের নিরাপত্তা নিয়ে সবার মনোভাব এখন এক, এবং শীঘ্রই এগুলো বাস্তবায়িত হবে।
২৭ এপ্রিল ফের এক বৈঠক হয়, যেখানে আগের বৈঠকের সিদ্ধান্তগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। ইম্পার সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত সংবাদমাধ্যমের সামনে জানান, “৯৫ শতাংশ দাবিই মেনে নেওয়া হয়েছে। কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা এখনও চলবে, তবে সেগুলো শীঘ্রই সমাধান হবে।” একইসঙ্গে প্রযোজক শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়ও বলেন, “আজকের বৈঠকে অনেক বিষয় পরিস্কার হয়েছে, তবে কিছু ছোট ছোট পয়েন্ট বাকি রয়েছে, সেগুলো নিয়ে ভাবনাচিন্তা চলছে।” বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বেশিরভাগ প্রযোজক এবং তারা আরও কিছু নতুন পয়েন্ট সামনে এনেছেন, যার ভিত্তিতে পরবর্তী বৈঠক হবে বলে জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ উর্দি পড়ে সরকার বদলের ডাক ! ‘হিন্দুদের ধর্মান্তরে উৎসাহ দিচ্ছে তৃণমূল’, রাজ্য পুলিশের খাকি পোশাকেই মমতার বিরুদ্ধে বিস্ফো*রক অভিযোগ! ভাইরাল ভিডিও ঘিরে রাজ্য জুড়ে তীব্র বিতর্ক!
অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের মতে, “আজকের বৈঠকে আমরা যে সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি, তা আমাদের সকলের জন্য। রাহুলের মৃত্যুর পর আমরা অনেক কিছু শিখেছি এবং ভবিষ্যতে এই নিয়মগুলো পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” যিশু সেনগুপ্ত আরও জানান, “আজকের এই বৈঠকটা আমাদের একতা এবং সংহতির প্রমাণ। সকলের মধ্যে মতবিরোধ থাকলেও, একত্রিত হয়ে কাজ করার যে ইচ্ছা রয়েছে, তা আজকের বৈঠকেই প্রকাশিত হয়েছে। আমরা গর্বিত, কারণ এখানে আমরা একসঙ্গে কাজ করতে পারছি।”






