“উদয়নারায়ণপুরে সিআরপিএফের লাথিতে বৃদ্ধের মৃত্যু” মিথ্যে দাবি তুলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়! নির্বাচন কমিশনের সিসিটিভি ফুটেজে ভেস্তে গেল অভিযোগ! রাজনৈতিক মঞ্চে সহানুভূতি আদায়ের লক্ষ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে এই তথ্য ছড়ানো হয়েছে?

হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরে ভোটের দিনে এক বৃদ্ধের মৃত্যুকে ঘিরে যে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তা নতুন মোড় নিল নির্বাচন কমিশনের প্রকাশ করা সিসিটিভি ফুটেজে। বুধবার ভোটগ্রহণ শেষ হতেই শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়, কেন্দ্রীয় বাহিনীর ধাক্কায় এক প্রবীণ ভোটারের মৃত্যু হয়েছে। এমনকি মমতা ব্যানার্জি নিজেও দাবি করেন, সিআরপিএফ জওয়ানদের লাঠির আঘাতেই ওই বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। এই অভিযোগ ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়।

তবে পরের দিনই, অর্থাৎ বৃহস্পতিবার, নির্বাচন কমিশন গোটা ঘটনাটির বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয় এবং সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করে অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করে। কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, মৃত ব্যক্তি পূর্ণচন্দ্র দোলুই (৮২), ২৯ এপ্রিল ২০২৬-এ উদয়নারায়ণপুরের বুথ নম্বর ২৪৫-এ নিজের ছেলের সঙ্গে ভোট দিতে গিয়েছিলেন। শারীরিকভাবে দুর্বল হলেও তিনি নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেন এবং ছেলের সাহায্যে ইভিএম পর্যন্ত পৌঁছান। ভোট দেওয়ার পরেই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি।

কমিশনের জেনারেল অবজারভার স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে কোনও ধাক্কাধাক্কি বা কেন্দ্রীয় বাহিনীর দুর্ব্যবহারের প্রমাণ মেলেনি। বরং সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ভোট দেওয়ার পরেই বৃদ্ধটি ধীরে ধীরে অসুস্থ হয়ে পড়ে যান। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, বয়সজনিত কারণ বা তাপজনিত অসুস্থতার জেরেই এই মৃত্যু। দ্রুত তাঁকে আমতা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও, পৌঁছানোর আগেই চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

এই প্রেক্ষাপটে নির্বাচন কমিশন কড়া ভাষায় রাজনৈতিক অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সতর্ক করেছে। কমিশনের বক্তব্য, একটি স্বাভাবিক মৃত্যুকে ইচ্ছাকৃতভাবে বিকৃত করে রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির চেষ্টা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। বিশেষ করে, কোনও যাচাই ছাড়াই এমন গুরুতর অভিযোগ ছড়িয়ে দেওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে এবং মৃতের পরিবারের উপরও অতিরিক্ত মানসিক চাপ পড়ছে। কমিশন আরও জানায়, সারা রাজ্যে সিএপিএফ জওয়ানরা পেশাদারিত্বের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে কাজ করছেন এবং তাঁদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ আনা অন্যায়।

আরও পড়ুনঃ তৃণমূলের উপস্থিতিতেই কি নিভে গেল আলো? স্ট্রংরুমে হঠাৎ অন্ধকার, ক্যামেরা অফ, চক্রান্ত না কাকতালীয়, প্রশ্নে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি!

এই ঘটনার পর প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, এত বড় অভিযোগ প্রকাশ্যে আনার আগে কি কোনও যাচাই-বাছাই করা হয়েছিল? নাকি রাজনৈতিক মঞ্চে সহানুভূতি আদায়ের লক্ষ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে এই তথ্য ছড়ানো হয়েছে? বিরোধী মহলের একাংশের দাবি, এই ধরনের অভিযোগ মানুষকে উত্তেজিত করার কৌশল ছাড়া আর কিছু নয়। এখন দেখার, সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশের পরও এই বিতর্ক কতদূর গড়ায় এবং নির্বাচন কমিশন আদৌ কোনও পদক্ষেপ নেয় কি না।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর