পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর ভোট গণনাকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলায় বড় সিদ্ধান্ত জানাল দেশের শীর্ষ আদালত। কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের গণনা প্রক্রিয়ায় নিয়োগ নিয়ে আপত্তি তুলে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু শনিবার সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দিল, এই বিষয়ে তারা কোনও হস্তক্ষেপ করবে না। ফলে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত বহাল থাকল এবং গণনার দিন কেন্দ্রীয় কর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত হল।
এই মামলায় তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সওয়াল করেন বিশিষ্ট আইনজীবী কপিল সিবাল। তিনি আদালতে দাবি করেন, নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্ত একতরফা এবং এতে রাজ্য সরকারি কর্মীদের যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি গণনা টেবিলে রাজ্য সরকারি কর্মীদের থাকা উচিত, কিন্তু বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না। তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, কেন রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে আলোচনা না করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হল এবং কেন কমিশন এমন আশঙ্কা করছে যে প্রতিটি বুথে অশান্তি হতে পারে।
শুনানির সময় বিচারপতি পিএস নরসিংহ এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী-এর বিশেষ বেঞ্চ তৃণমূলের যুক্তি খতিয়ে দেখে স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে, কমিশনের সিদ্ধান্তে কোনও বেআইনি দিক তারা দেখছে না। বিচারপতিরা প্রশ্ন তোলেন, কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে আলোচনা বাধ্যতামূলক, এমন কোনও নিয়ম কোথায় রয়েছে? এই প্রশ্নের জোরালো উত্তর দিতে পারেনি তৃণমূলের পক্ষ।
বিচারপতি নরসিংহ একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণে বলেন, গণনা তদারককারী বা সহকারী হিসেবে কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য দুই স্তরের কর্মীরাই থাকতে পারেন। আইনেই যখন এই বিকল্প রয়েছে, তখন শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় কর্মী নিয়োগকে বিধি-বিরোধী বলা যায় না। তিনি আরও বলেন, কেন্দ্রীয় ও রাজ্য কর্মীদের আলাদা করে দেখা ঠিক নয়, কারণ তারা সকলেই সরকারি কর্মচারী এবং তাদের কাজের উদ্দেশ্য একই নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করা।
তৃণমূলের অভিযোগ ছিল, ইতিমধ্যেই প্রতিটি টেবিলে মাইক্রো অবজার্ভার হিসেবে একজন কেন্দ্রীয় কর্মী থাকেন, তাহলে আবার নতুন করে আরও কেন্দ্রীয় কর্মী নিয়োগের প্রয়োজন কী? এর উত্তরে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গণনা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতেই এই অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য উত্তেজনার কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
আরও পড়ুনঃ তৃণমূল নেতা সুজিত বসুকে নিয়ে ইডির ম্যারাথন জেরা, বারবার তলব কেন? ৬ তারিখ ডাকা হল রথীন ঘোষকে, পুর নিয়োগ কেলেঙ্কারিতে কি জালে জড়াচ্ছে তৃণমূলের বড় মুখরা?
এই রায়ের ফলে কার্যত কলকাতা হাইকোর্টের পর সুপ্রিম কোর্টেও বড় ধাক্কা খেল রাজ্যের শাসকদল। আদালতের সবুজ সংকেত পাওয়ায় এখন গণনা কেন্দ্রে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের নিয়োগে আর কোনও আইনি বাধা রইল না। আগামী ৪ মে ভোট গণনার দিন প্রতিটি টেবিলে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে কড়া নজরদারির মধ্যেই গণনা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই সিদ্ধান্তে গণনার স্বচ্ছতা বাড়বে, তবে একই সঙ্গে রাজ্য বনাম কেন্দ্রের টানাপোড়েন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল।






