ই-ফার্মেসির বিরুদ্ধে দেশজুড়ে ধর্মঘট! ২০ মে, বন্ধ সব ওষুধের দোকান! উদ্বেগ বাড়ছে শহরজুড়ে!

দেশজুড়ে ই-ফার্মেসি পরিষেবার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ গড়ে উঠেছে ওষুধ ব্যবসায়ীদের মধ্যে। অনলাইন ওষুধ বিক্রির বাড়বাড়ন্ত, জাল ও নিম্নমানের ওষুধের আশঙ্কা এবং দামের অনিয়ন্ত্রণের অভিযোগ তুলে ২০ মে ১২ ঘণ্টার দেশব্যাপী ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে কেমিস্ট-ড্রাগিস্টদের সর্বভারতীয় সংগঠন। এই ধর্মঘটের জেরে ওইদিন দেশের বহু জায়গায় ওষুধের দোকান বন্ধ থাকার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য বড় ভোগান্তির কারণ হতে পারে।

সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই তারা ই-ফার্মেসি নিয়ন্ত্রণে আনার দাবিতে সরব। তাদের অভিযোগ, অনলাইনে ওষুধ বিক্রির ফলে দেশের ওষুধ সুরক্ষা বিধি মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ভুয়ো প্রেসক্রিপশন ব্যবহার করে ওষুধ কেনাবেচা হচ্ছে, যা রোগীদের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। এই বিষয়গুলি নিয়ে একাধিকবার ওষুধ কোম্পানিগুলির সঙ্গে আলোচনা হলেও কোনও কার্যকর সমাধান মেলেনি বলেই দাবি সংগঠনের।

আরও পড়ুন: ‘৪ তারিখের পর তোকেও টেনে নিয়ে যাব’ ভোট-পরবর্তী হিং*সায় তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগে তপ্ত রাজ্য রাজনীতি!

এই পরিস্থিতিতেই শেষমেশ কঠোর পদক্ষেপ হিসেবে ধর্মঘটের পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংগঠনের মূল তিনটি দাবি স্পষ্ট, প্রথমত, দেশের স্বার্থে ই-ফার্মেসি পরিষেবা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, ওষুধ কোম্পানিগুলির ইচ্ছেমতো ডিসকাউন্ট বা দামের হেরফের বন্ধ করতে হবে, কারণ এতে ওষুধের মানের উপর প্রভাব পড়ছে বলে অভিযোগ। তৃতীয়ত, করোনা পরিস্থিতির সময় চালু হওয়া বাড়ি-বাড়ি ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার বিশেষ সুবিধাকে আর ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।

উল্লেখযোগ্যভাবে, করোনা মহামারির সময় সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা মাথায় রেখে ই-ফার্মেসি পরিষেবা চালু করা হয়েছিল। সেই সময় বাড়িতে বসেই প্রয়োজনীয় ওষুধ পাওয়ার সুবিধা ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় হয়। তবে এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও সেই পরিষেবা আগের মতোই চলছে, বরং আরও বিস্তৃত হয়েছে। অনলাইনে জামাকাপড় বা খাবারের মতোই সহজে ওষুধ পাওয়ার সুবিধা অনেকের কাছে স্বস্তির হলেও, ব্যবসায়ীদের মতে এর ফলে বাজারে অনিয়ম বাড়ছে।

২০ মে-র এই প্রতীকী ধর্মঘটের ফলে একদিনের জন্য দেশের বহু ওষুধের দোকান বন্ধ থাকতে পারে। ফলে জরুরি ওষুধ পেতে সমস্যায় পড়তে পারেন সাধারণ মানুষ। সংগঠন ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, তারা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই এই পদক্ষেপ নিচ্ছে। এখন দেখার, এই ধর্মঘটের পর সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয় এবং ই-ফার্মেসি নিয়ে এই বিতর্কের শেষ কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়।

RELATED Articles