ভোটগণনার আর মাত্র একদিন বাকি। তার আগেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক আবহে ফের উত্তেজনা ছড়াল উত্তর ২৪ পরগনার নোয়াপাড়ায়। বিজেপি নেতা কুন্দন সিংয়ের বাড়ির সামনে গুলি চালানোর অভিযোগ ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সামনে এসেছে সিসিটিভি ফুটেজও, যেখানে দেখা যাচ্ছে বাইকে করে আসা দুই ব্যক্তি বাড়ির সামনে এসে গুলি চালিয়ে দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে। ভোটের আগে এই ঘটনা রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি রাতের দিকে ঘটে। কুন্দন সিংয়ের বাড়ির সামনে আচমকাই বাইকে চেপে আসে দুই দুষ্কৃতী। অভিযোগ, তারা লক্ষ্য করে গুলি চালায় এবং কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। গোটা ঘটনাই ধরা পড়ে বাড়ির বাইরে লাগানো সিসিটিভি ক্যামেরায়। এই ফুটেজ সামনে আসতেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। ঘটনার পর এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনার পর বিজেপি নেতা কুন্দন সিং সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দাবি করেন, এই হামলার পিছনে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা জড়িত। তাঁর কথায়, কেন তাঁকে লক্ষ্য করে হামলা করা হল, তা তিনি নিশ্চিতভাবে বলতে না পারলেও, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তিনি দু’জনকে শনাক্ত করেছেন এবং তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছেন। তাঁর অভিযোগ, অভিযুক্তদের নাম আকাশ চৌধুরী ও আমন চৌধুরী এবং তারা তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত। এমনকি তিনি দাবি করেন, নোয়াপাড়ার তৃণমূল প্রার্থী তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্যের সঙ্গে অভিযুক্তদের ঘনিষ্ঠতার প্রমাণ হিসেবে কিছু ছবিও রয়েছে।
কুন্দন সিংয়ের দাবি, ভোটের আবহে এলাকায় ভয় তৈরি করে বিরোধীদের চাপে রাখার চেষ্টা চলছে, তবে বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা এতে ভয় পাচ্ছেন না।
অন্যদিকে, এই সমস্ত অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন নোয়াপাড়ার তৃণমূল প্রার্থী তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য। তাঁর বক্তব্য, অভিযুক্তদের তিনি ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না এবং যদি তারা কারও ঘনিষ্ঠও হয়ে থাকে, তাহলে আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তৃণাঙ্কুরের দাবি, আগের রাতেই তাঁর এক সমর্থকের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছিল। সেই ঘটনার পরেই কুন্দন সিংয়ের বাড়িতে হামলার খবর সামনে আসে। তাঁর অভিযোগ, এই গোটা বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে পরিকল্পিতও হতে পারে এবং পরিস্থিতি ঘোরাতে এই ঘটনা সাজানো হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার।
আরও পড়ুন: সংখ্যালঘু এলাকার EVM আগে গণনা ঘিরে তুঙ্গে বিতর্ক! ভোট গণনার আগেই TMC–BJP মুখোমুখি, কার কৌশলে বদলাবে ফলের গতি?
একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, তাঁর কাছেও খবর রয়েছে যে অভিযুক্তরা বিজেপির সঙ্গেই যুক্ত।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নোয়াপাড়ার রাজনৈতিক পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ভোটগণনার আগে এমন হামলার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে। দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুললেও এখন নজর পুলিশের তদন্তের দিকে। সিসিটিভি ফুটেজ, অভিযোগপত্র এবং স্থানীয় সূত্রের তথ্য খতিয়ে দেখে প্রকৃত সত্য সামনে আনার চেষ্টা চলছে। রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক দোষারোপের মাঝেও সাধারণ মানুষের একটাই প্রত্যাশা, ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতি যেন শান্তিপূর্ণ থাকে এবং আইন-শৃঙ্খলা বজায় থাকে।






