আমফানের জেরে ৩০০টি রেশন দোকানে ৯০ কোটি টাকার খাদ্য়সামগ্রী নষ্ট

একেই দুমাস ধরে চলছে করোনার দাপট। যার জেরে দেশব্যাপী লকডাউনে মানুষের রোজগার বন্ধ হয়েছে, বাড়িতে খাদ্যসামগ্রীর টান পড়েছে। দুবেলা খাবার জোটাতে মানুষের নাভিশ্বাস উঠে যাচ্ছে। তার মধ্যে ঘূর্ণীঝড়ের তান্ডবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে রাজ্যের ৯০ কোটির রেশন সামগ্রী। খাদ্য দফতরের খবর অনুযায়ী, দুর্যোগে শহর ও শহরতলি মিলিয়ে মোট ৩০০টি মতো রেশন দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বুধবার আমফানে শহর জুড়ে ভারী বর্ষণের জেরে বহু দোকানেই বৃষ্টির জল ঢুকে গেছে। ভিজেছে বহু বস্তা বস্তা চাল, চিনি, ময়দা, ছোলা। এমনকি শুক্রবারেও কিছু রেশন দোকান থেকে বৃষ্টির জল বার করা সম্ভব হয়নি।

খাদ্য দফতর সূত্রে জানা গেছে, কলকাতা ও শহরতলি মিলিয়ে মোট ২,২৫২ টি রেশন দোকান রয়েছে। যার মধ্যে শুধু কলকাতাতেই রয়েছে ৯৩৪টি। ঘূর্ণীঝড়ের দাপটে বৃষ্টির জল ঢুকে বিশাল ক্ষতির মুখে পড়েছে ৩০০টির মতো রেশনঘর। লকডাউনে মানুষের খাদ্যসামগ্রীর অভাব মেটাতে রাজ্য ও কেন্দ্রের তরফে মানুষের জন্য মজুত করা প্রায় ৯০ কোটির রেশন সামগ্রী জলে ভেসে গেছে। আমফান প্রশাসনের সমস্ত চেষ্টাকে একরাতেই জল ঢেলে দিয়ে গেল। রমজান উপলক্ষে রেশন দোকানগুলিতে বেশি পরিমাণে চিনি, ছোলা ও ময়দা মজুত রাখা হয়েছিল। তাও আর রইল না। শুক্রবার অনেক ডিলার নিজেরাই ভেজা চালগুলিকে বার করে দোকান চত্বরেই শুকোতে দিয়েছেন।

খাদ্য দফতর সূত্রের খবর, প্রবল বর্ষণে কলকাতার আমহার্স্ট স্ট্রিট, মুচিপাড়া, বেনিয়াপুকুর, মানিকতলা, বেহালা, জোড়াবাগান, ওয়াটগঞ্জ, মোমিনপুর এলাকার রেশন দোকানগুলির শোচনীয় অবস্থা। এছাড়া হাওড়ার বনহুগলি, রিষড়া, বজবজ, শ্রীরামপুর এর বিভিন্ন রেশন দোকানগুলিরও ব্যাপক হয়েছে।

‘অল ইন্ডিয়া ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন’-র সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু জানান, ‘আমফানের তাণ্ডবে কলকাতা ও শহরতলি মিলিয়ে মোট ৩০০টি রেশন দোকান এবং ৯০ কোটি টাকার খাদ্যসামগ্রী নষ্ট হয়েছে। এছাড়াও বৃষ্টির জলে প্রয়োজনীয় সমস্ত নথিপত্র এবং খাদ্যসামগ্রী লেনদেনের ইলেকট্রনিক মেশিনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’ নষ্ট হওয়া খাদ্যসামগ্রী ও বৈদ্যুতিন যন্ত্র বদলাতে শুক্রবারই রাজ্যের খাদ্যসচিব পারভেজ আহমেদ সিদ্দিকিকে চিঠি লিখেছেন বিশ্বম্ভরবাবু। চিঠি পেয়ে খাদ্যসচিব জানিয়েছেন, ‘আমাদের আধিকারিকেরা ক্ষতিগ্রস্ত রেশন দোকানগুলির পরিদর্শন করছেন। আমরা অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’

RELATED Articles

Leave a Comment