মাতৃদিবসের বিশেষ দিনে ব্যক্তিগত জীবনের এক গভীর অধ্যায় সামনে আনলেন টলিউড অভিনেত্রী লাবণী সরকার। বহুদিনের চেনা অভিনেত্রী এদিন জানালেন, মা হওয়া মানেই শুধু সন্তান জন্ম দেওয়া নয়, তার চেয়েও বড় হল ভালোবাসা, দায়িত্ব এবং পাশে থাকা। কৌশিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীবনে আসার সময় তাঁর ছেলে সুস্নাতের বয়স ছিল মাত্র ১৩ বছর। সেই কিশোরকেই ধীরে ধীরে নিজের সন্তানের মতো গ্রহণ করেছিলেন লাবণী। তিনি স্পষ্ট বলেন, “মাতৃত্ব শুধু জন্মদান নয় ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ!” এই বক্তব্যের মধ্যেই ধরা পড়েছে তাঁর জীবনের দর্শন। সম্পর্কের শুরু থেকেই তিনি বুঝেছিলেন, এই পরিবারে তাঁর ভূমিকা শুধু সঙ্গীর নয়, আরও অনেক বড়। তাই মাতৃদিবসে নিজের অভিজ্ঞতা খোলাখুলি ভাগ করে নেন অভিনেত্রী।
লাবণী জানান, কৌশিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রাক্তন স্ত্রী মনোবীণা মিত্রের সঙ্গে সম্পর্ক শেষ হওয়ার পর তিনি কৌশিকের জীবনে আসেন। তখন সুস্নাত ছিল এক কিশোর, বয়স মাত্র ১৩। প্রথমবার ছেলেটিকে দেখে তাঁর মনে হয়েছিল, এই বয়সে ওর জীবনে একজন মায়ের উপস্থিতি খুব দরকার। অভিনেত্রী বলেন, “ছেলেটির জীবনে আমি তখন কেবল একজন পরিচিতি হয়ে এসেছিলাম। কিন্তু খুব দ্রুতই বুঝতে পারলাম, তাকে শুধু ভালোবাসা এবং সহমর্মিতা প্রয়োজন।” সেই অনুভূতি থেকেই তিনি সুস্নাতের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। ধীরে ধীরে সম্পর্কের ভিত আরও শক্ত হয়। রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও মন থেকে মা-ছেলের বন্ধন তৈরি হয় বলে জানান তিনি।
নিজের সন্তান না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও স্পষ্টভাবে কথা বলেছেন লাবণী সরকার। তিনি জানান, কখনও মনে হয়নি নিজের সন্তান না থাকলে জীবন অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। তাঁর কাছে সম্পর্কের মূল্য রক্তের বন্ধনের চেয়ে অনেক বেশি। তাই নতুন করে সন্তান নেওয়ার কথা তিনি ভাবেননি। বরং যাকে মায়ের স্নেহের প্রয়োজন, তাকেই ভালোবাসা দিতে চেয়েছেন। অভিনেত্রীর কথায়, “যে শিশু মায়ের ভালোবাসা পায়নি, তাকে দিয়েই আমি নিজের মা হওয়া পূর্ণ করি।” এই ভাবনাই তাঁকে আলাদা করেছে। তিনি মনে করেন, মাতৃত্ব অনুভূতির জায়গা, তা শুধু জন্মদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
আরও পড়ুন: ১৫ বছরের ক্ষমতা হারিয়েই এবার বাম-অতিবামদের হাত ধরতে চাইছেন মমতা! “ক্ষমতা থাকাকালীন বামেদের আক্রমণ, আর ক্ষমতা যেতেই ‘বিজেপি রুখতে ঐক্য’র ডাক” CPIML-এর কড়া বার্তা!
এই প্রসঙ্গে লাবণী ধর্মীয় উদাহরণও টেনে আনেন। তিনি বলেন, “কৃষ্ণেরও দুটি মা ছিল একজন জন্মদাত্রী এবং একজন যিনি তাকে বড় করেছিলেন।” তাঁর মতে, সমাজে এমন সম্পর্ক নিয়ে নানা কথা হলেও তিনি কখনও দ্বিধায় ভোগেননি। সময়ের সঙ্গে সুস্নাতের ভালোবাসা, বিশ্বাস এবং নির্ভরতা তাঁদের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করেছে। লাবণী জানান, তিনি শুধু মা হিসেবেই নয়, ছেলের জীবনের ভরসার জায়গা হিসেবেও পাশে থেকেছেন। জীবনের নানা সময়ে সুস্নাত তাঁকে নিজের আপনজন বলেই দেখেছে। এই বিশ্বাসই তাঁদের পরিবারকে আরও কাছাকাছি এনেছে।
মাতৃদিবস উপলক্ষে তাঁদের বাড়িতে আলাদা করে কোনও অনুষ্ঠান হয়নি বলেও জানান অভিনেত্রী। তবে বিশেষ দিনের আনুষ্ঠানিকতার চেয়ে সম্পর্কের গভীরতাকেই বেশি গুরুত্ব দেন তিনি। লাবণীর কথায়, সুস্নাত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে সবসময় তাঁকে পাশে রাখতে চেয়েছে। তিনি নিয়ম বা কঠোর শাসনের বদলে অনুভূতি, বোঝাপড়া এবং মমতাকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। সেই কারণেই ১৩ বছরের এক কিশোরের সঙ্গে তৈরি হয়েছিল অটুট সম্পর্ক। আজও সেই বন্ধন অক্ষুণ্ণ রয়েছে। লাবণীর মতে, ভালোবাসা, দায়িত্ব এবং পাশে থাকার মানসিকতাই একজন মানুষকে সত্যিকারের মা করে তোলে।






‘ভগবান শুধু আশা দেন, কাজ কিছুই করেন না!’ ঈশ্বরকে নিয়ে বিস্ফো’রক জাভেদ আখতার