তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে চলতে থাকা নজিরবিহীন রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই বড়সড় সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধানসভায় বিদ্রোহী শিবিরের সক্রিয়তা যখন রাজ্য রাজনীতির অন্যতম আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে, ঠিক সেই সময় পশ্চিমবঙ্গে দলের সমস্ত কমিটি ও শাখা সংগঠন ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। একইসঙ্গে বিদ্রোহী বিধায়কদের উদ্যোগে গড়ে উঠেছে নতুন নেতৃত্বের কাঠামো, যা রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বুধবার দলের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে যে পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত স্তরের সাংগঠনিক কমিটি এবং বিভিন্ন শাখা সংগঠন অবিলম্বে বিলুপ্ত করা হয়েছে। দলীয় সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক কার্যকলাপ, কর্মক্ষমতা এবং নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে বিস্তৃত পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তা থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে জেলার স্তর থেকে শুরু করে রাজ্যস্তর পর্যন্ত সংগঠনকে নতুনভাবে সাজানোর পরিকল্পনা রয়েছে। দলীয় নেতৃত্বের মতে, পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর সংগঠন গড়ে তুলতেই এই পুনর্গঠনের পথে হাঁটা হয়েছে।
তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে বিধানসভায় তৈরি হওয়া অভ্যন্তরীণ সংকট। গত কয়েকদিন ধরে একাধিক বিধায়কের অসন্তোষ প্রকাশ্যে আসার পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে শুরু করে। সেই আবহে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহার নেতৃত্বে বিদ্রোহী শিবির সমান্তরাল বৈঠক চালিয়ে যায়। এরপরই একযোগে ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থন নিয়ে বিধানসভার অধ্যক্ষের কাছে একটি চিঠি জমা পড়েছে বলে জানা যায়। সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলনেত্রী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলেও পরিষদীয় দল পরিচালনার জন্য নতুন নেতৃত্বের প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে।
সেই প্রস্তাব অনুযায়ী বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম মনোনীত করা হয়েছে। উপ-দলনেতা হিসেবে জাভেদ খান, শিউলি সাহা, সন্দীপন সাহা এবং সাবিনা ইয়াসমিনের নামও প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি মুখ্য সচেতকের দায়িত্বের জন্য আখরুজ্জামানের নাম সামনে এসেছে। বিদ্রোহী শিবিরের দাবি, বিধানসভার ভেতরে দলের কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও ঐক্যবদ্ধভাবে পরিচালনা করার লক্ষ্যেই এই নেতৃত্ব কাঠামো গঠন করা হয়েছে। তবে এই পদক্ষেপকে ঘিরে দলের অন্দরে মতবিরোধ এবং রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বেড়েছে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
আরও পড়ুনঃ দল হাতছাড়া হওয়ার মাঝেই গ্রেফ*তারির আশঙ্কায় হাইকোর্টে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়! সিআইডি-র নোটিসকে চ্যা’লেঞ্জ করে রক্ষাকবচ চাইলেন তৃণমূল নেতা!
অন্যদিকে, ‘নতুন তৃণমূল’-এর নেতৃত্ব নিয়েও ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত রূপরেখা সামনে এসেছে। বিদ্রোহী বিধায়কদের সমর্থনে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে সামনে আনা হয়েছে। সহকারী দলনেতার ভূমিকায় রয়েছেন সন্দীপন সাহা, জাভেদ খান এবং শিউলি সাহা। চিফ হুইপ হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আখরুজ্জামান। একদিকে যখন দলীয় নেতৃত্ব গোটা সংগঠন ভেঙে নতুন করে গঠনের পথে হাঁটছে, অন্যদিকে বিদ্রোহী শিবির নিজেদের বিকল্প নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসকে ঘিরে তৈরি হয়েছে এক নতুন অনিশ্চয়তা। এখন রাজনৈতিক মহলের নজর রয়েছে আগামী দিনে দলীয় পুনর্গঠন কত দ্রুত সম্পন্ন হয় এবং বিদ্রোহী নেতৃত্বের পরবর্তী পদক্ষেপ রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে কোন দিকে নিয়ে যায়, তার উপর।






