‘সৌজন্যের রাজনীতি শিখতে হবে!’ টলিউডের নয়া কমিটিতে এবার দেবও! মেগাস্টারকে পাশে পেয়েও কেন খোঁচা হিরণের? বিজেপি বিধায়কের প্রতিক্রিয়া নিয়ে শুরু জোর চর্চা!

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর বাংলা চলচ্চিত্র জগতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে টলিউডে প্রভাব বিস্তারকারী একাধিক ব্যক্তিত্ব বর্তমানে বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগে চাপে রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে বাংলা সিনেমা ও টেলিভিশন শিল্পকে নতুনভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে উদ্যোগী হয়েছে রাজ্য সরকার। সেই লক্ষ্যেই সম্প্রতি গঠন করা হয়েছে একটি নতুন উপদেষ্টামণ্ডলী, যেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের তারকারাও একসঙ্গে কাজ করবেন।

গত ৮ জুন নবান্নে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উদ্যোগে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে বাংলা সিনেমা ও টেলিভিশন শিল্পের নানা সমস্যা, সম্ভাবনা এবং উন্নয়ন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। সেই বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বুধবার রাতে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে নতুন উপদেষ্টামণ্ডলীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। শিল্পের সামগ্রিক উন্নয়ন এবং বিভিন্ন সমস্যার সমাধান খুঁজতেই এই কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

নতুন কমিটিতে জায়গা পেয়েছেন রুদ্রনীল ঘোষ, হিরণ্ময় চট্টোপাধ্যায়, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, দীপক অধিকারী ওরফে দেব, যিশু সেনগুপ্ত, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, পাপিয়া অধিকারী, প্রযোজক মহেন্দ্র সোনি, পরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়, পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়, পরিচালক ও প্রযোজক সানি ঘোষ রায়, প্রোডাকশন ম্যানেজার জয়ন্ত কুন্ডু, টিভি পরিচালক অমিত দাস, অভিনেতা তন্ময় দে এবং তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের সচিব সৌমিত্র মোহনসহ আরও অনেকে। বিভিন্ন ক্ষেত্রের অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে এই কমিটি গঠন হওয়ায় শিল্পমহলে ইতিবাচক আলোচনা শুরু হয়েছে।

বিশেষভাবে নজর কেড়েছে দেব এবং বিজেপি বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের একসঙ্গে এই কমিটিতে থাকা। বিষয়টি নিয়ে হিরণ বলেন, “কমিটিতে এমন মানুষও রয়েছেন, যাঁরা একুশে জুলাইয়ের মঞ্চেও ছিলেন। কীভাবে সৌজন্যের রাজনীতি করতে হয়, এটা তাঁদের শেখা উচিত। রাজনীতির উর্ধ্বে গিয়ে মানুষের উন্নয়ন।” তাঁর এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক ও বিনোদন মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, মন্তব্যটি সম্ভবত দেবকে লক্ষ্য করেই করা হয়েছে। কারণ রাজনৈতিক মহলে দেব দীর্ঘদিন ধরেই সৌজন্যপূর্ণ আচরণের জন্য পরিচিত।

আরও পড়ুনঃ টিআরপিতে ফের বাজিমাত ‘জোয়ার ভাঁটা’র, জমে উঠল জি বাংলা বনাম স্টার জলসার সাপ্তাহিক লড়াই! এই সপ্তাহের তালিকায় সেরা পাঁচে কোন কোন ধারাবাহিক?

দেবের রাজনৈতিক এবং ব্যক্তিগত অবস্থান নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তৃণমূলের সাংসদ হয়েও তিনি বহুবার রাজনৈতিক বিভাজনের বাইরে গিয়ে বিজেপি সমর্থক শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করেছেন। গত লোকসভা নির্বাচনে ঘাটাল কেন্দ্রে দেব ও হিরণ একে অপরের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। সেই নির্বাচনে জয়ী হয়ে দেব টানা তৃতীয়বার সাংসদ নির্বাচিত হন। অন্যদিকে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে শ্যামপুর কেন্দ্র থেকে জয় পেয়েছেন হিরণ। এবার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা সরিয়ে রেখে টলিউডের উন্নয়নের স্বার্থে তাঁদের একসঙ্গে কাজ করতে দেখা যাবে। ফলে এই নতুন সমীকরণের দিকে সিনেমা জগতের পাশাপাশি রাজনৈতিক মহলেরও বিশেষ নজর থাকবে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর