দিনে নিরাপত্তারক্ষী, অবসরে রবীন্দ্রসঙ্গীতের সাধক! শান্তিনিকেতনের শোভন চক্রবর্তীর গান, নেটপাড়ায় ছুঁয়ে যাচ্ছে সবার মন! কিন্তু জানেন কি এই বিশ্বভারতীর প্রাক্তনী তথা শিক্ষকের জীবনযু’দ্ধের গল্পটা?

শান্তিনিকেতনের গুরুপল্লির বাসিন্দা শোভন চক্রবর্তীর পরিচয় এখন শুধু একজন নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে নয়, রবীন্দ্রসঙ্গীতপ্রেমী হিসেবেও ছড়িয়ে পড়েছে। সংসারের দায়িত্ব সামলাতে তিনি বর্তমানে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তারক্ষীর কাজ করেন। তবে কাজের ফাঁকেই তিনি সময় দেন রবীন্দ্রসঙ্গীতের চর্চায়, যা তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় ভালোবাসা। সম্প্রতি তাঁর গান সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর অনেকেই নতুন করে তাঁর প্রতিভার কথা জানতে পেরেছেন।

মাত্র আড়াই বছর বয়সে মায়ের হাত ধরে গানের জগতে প্রবেশ করেন শোভন। পরে বিশ্বভারতীর সঙ্গীত ভবনে রবীন্দ্রসঙ্গীতের তালিমও নিয়েছিলেন। কিন্তু পরিবারের আর্থিক সমস্যার কারণে সেই পড়াশোনা শেষ করা সম্ভব হয়নি। তবুও গান থেকে নিজেকে কখনও দূরে সরিয়ে রাখেননি। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা থেমে গেলেও নিজের চর্চা নিয়মিত চালিয়ে গিয়েছেন তিনি।

এক সময় বহু ছাত্রছাত্রী তাঁর কাছে রবীন্দ্রসঙ্গীত শিখতে আসতেন। ছোটদের গান শেখানোর মধ্যেই তিনি নিজের আনন্দ খুঁজে পেতেন। তাঁর কণ্ঠের মাধুর্য এবং গানের প্রতি নিষ্ঠা শান্তিনিকেতনের অনেক মানুষের কাছে পরিচিত। অনেকেই তাঁর গান শুনে মুগ্ধ হন এবং তাঁর সুরের প্রশংসা করেন। তাই এলাকার মানুষের কাছে তিনি আজও একজন প্রিয় ‘মাস্টারমশাই’ হিসেবেই পরিচিত।

করোনা মহামারীর পর পরিস্থিতি বদলে যায়। ধীরে ধীরে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় গান শেখানো থেকে নিয়মিত আয় প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। সংসার চালানোর জন্য বাধ্য হয়ে নিরাপত্তারক্ষীর কাজ বেছে নিতে হয় তাঁকে। তবে পেশা বদলালেও রবীন্দ্রসঙ্গীতের প্রতি তাঁর ভালোবাসা এতটুকুও কমেনি। প্রতিদিনের কাজ শেষ করে আবার ফিরে যান নিজের প্রিয় গানের জগতে।

আরও পড়ুনঃ ‘আমার কাছে পরিবারই সব নয়, ভালোবাসাও ওভাররেটেড…’, জীবনদর্শন নিয়ে মত প্রকাশ করতেই চর্চায় অর্পিতা চট্টোপাধ্যায়! দীর্ঘদিনের দাম্পত্যে কোন তিক্ততার ইঙ্গিত দিলেন ‘প্রসেনজিৎ ঘরণী’?

শোভন চক্রবর্তীর ইচ্ছা একটাই, আরও বেশি মানুষ রবীন্দ্রসঙ্গীতের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠুক। কেউ যদি তাঁর কাছে গান শিখতে চান, তিনি আনন্দের সঙ্গেই শেখাতে প্রস্তুত। তবে তিনি দান বা আর্থিক সাহায্য নিতে চান না, নিজের পরিশ্রমের সম্মানটুকুই তাঁর কাছে যথেষ্ট। তাঁর বিশ্বাস, রবীন্দ্রনাথের গানই তাঁকে জীবনের কঠিন সময়ে শক্তি দিয়েছে এবং আগামী দিনেও সেই সুরই তাঁর পথচলার সঙ্গী হয়ে থাকবে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর