মাকে ঘুম থেকে তোলার আপ্রাণ চেষ্টা করছে এক রত্তি শিশু। মর্মান্তিক এই ঘটনার সাক্ষী রইলেন বিহারের মুজফ্ফরপুর স্টেশনের মানুষজন। মায়ের পোশাক ধরে খেলছে সন্তান। অথচ সে জানেই না তার মা চিরনিদ্রায় চলে গেছেন। হয়তো মায়ের সাথে এখনো খেলা বাকি। কিন্তু মায়ের নিথর দেহ থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে সে।
বিহারের মুজফ্ফরপুর স্টেশনের এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটির ভিডিয়ো হু হু করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। তরুণীর পরিবার জানিয়েছে, শনিবার আমেদাবাদ থেকে বিহারগামী ‘শ্রমিক স্পেশ্যাল’ ট্রেনে উঠেছিলেন তিনি।এরপর জল ও খাবারের অভাবে ট্রেনেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। সোমবার মুজফ্ফরপুরে ট্রেন ঢোকার কিছুটা আগেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন ওই মহিলা।এরপর তার দেহটি ট্রেন থেকে নামিয়ে স্টেশনেই রাখা হয়। পরিবারের দাবি, প্রচন্ড গরম, খিদে এবং ডিহাইড্রেশনের চলতেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। যদিও তার পরিবারের দাবি সম্পূর্ণ উড়িয়ে দেন রেল। তারা আবার
পুরোপুরি ভিন্ন তত্ত্ব খাড়া করেছে।
https://twitter.com/priyankac19/status/1265560175324340226?s=20
সংবাদসংস্থা পিটিআইয়ের খবর অনুযায়ী, তরুণীর দেওরের কথাগুলো উদ্ধৃত করে মুজফ্ফরপুরে আরপিএফের ডেপুটি সুপার রমাকান্ত উপাধ্যায় বলেছেন, ‘আমার বৌদি হঠাৎই ট্রেনে মারা যান।তবে খাবার বা জল কোনো ক্ষেত্রেই আমাদের কোনও সমস্যায় পড়তে হয়নি।’ যদিও দেওরের নাম প্রকাশ করেননি ওই আধিকারিক।
একইসঙ্গে মৃতার দেওরকে উদ্ধৃত করে রমাকান্ত আরও জানান, গত এক বছর ধরে আমেদাবাদে তরুণীর ‘কিছু চিকিৎসা’ চলছিল। সোমবার পরিবারের থেকে খবর পেয়ে পুলিশ মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। তিনি বলেন, ‘উনি মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন ছিলেন।’
তবে কী কারণে মহিলার মৃত্যু হয়েছে, তা জানাতে চাননি রমাকান্ত। অনেক জোরাজুরির পর তিনি বলেন, ‘মহিলার মৃত্যুর কারণ শুধুমাত্র চিকিৎসকরাই বলতে পারবেন।’





