পুরস্কারের মনোনয়ন ঘিরে ফের প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানালেন অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। আদিত্য বিক্রম সেনগুপ্ত পরিচালিত ‘মায়ানগর’ ছবিতে মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন তিনি। ছবিতে তাঁর অভিনীত এলাই গল্পের অন্যতম কেন্দ্রীয় চরিত্র। এই ছবির জন্য জাতীয় পুরস্কারের সেরা অভিনেত্রী বিভাগেও মনোনীত হয়েছিলেন অভিনেত্রী। কিন্তু একটি আঞ্চলিক পুরস্কারের ক্ষেত্রে তাঁকে দেওয়া হয়েছে সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রীর মনোনয়ন। এই বিভাগে মনোনয়ন পাওয়াতেই প্রশ্ন তুলেছেন শ্রীলেখা। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আগামী ৪ অক্টোবরের পুরস্কার অনুষ্ঠানেও না যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন তিনি।
শ্রীলেখার বক্তব্য, ‘মায়ানগর’-এর গল্পই শুরু হয়েছে তাঁর অভিনীত এলাকে ঘিরে। তাই তাঁকে পার্শ্ব অভিনেত্রী হিসেবে মনোনীত করার যুক্তি কী, সেটিই তাঁর প্রশ্ন। সামাজিক মাধ্যমে নিজের বক্তব্য জানাতে গিয়ে অভিনেত্রী বোঝান, সাধারণভাবে পার্শ্ব অভিনেত্রী বলতে এমন শিল্পীকে বোঝানো হয়, যাঁর চরিত্রটি ছবির মুখ্য অভিনেত্রীর পরের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় থাকে। সেই হিসাবেই তিনি জানতে চেয়েছেন, এই ছবিতে তিনি আসলে কোন অভিনেত্রীকে সহায়তা করেছেন। তাঁর মতে, ছবির মূল চরিত্রে অভিনয় করেও এমন বিভাগে মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি করে। শ্রীলেখা জানিয়েছেন, এই বিষয়টি নিয়ে তিনি সরাসরি আয়োজকদের দিকেও প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, মনোনয়নের বিভাগ নিয়েই তাঁর আপত্তি, পুরস্কার পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে নয়।
বিষয়টি নিয়ে আয়োজক সংস্থার সম্পাদককে জানানো হয়েছিল বলেও জানিয়েছেন শ্রীলেখা। সেখান থেকে তাঁকে জানানো হয়, মনোনয়ন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত কমিটিই নিয়েছে। এর পরেই সেই কমিটির যোগ্যতা এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অভিনেত্রী। শ্রীলেখার দাবি, নিজের কাজের জন্য কখনও পুরস্কার পাওয়ার উদ্দেশ্যে তদ্বির করেননি তিনি। কাউকে ফোন করে নিজের নাম বিবেচনা করার অনুরোধও করেননি বলে জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, নিজের সম্মানের জায়গায় কোনও রকম আপস করতে রাজি নন তিনি। এই কারণেই ভুল বিভাগে মনোনয়নের প্রতিবাদ হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত না থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন শ্রীলেখা।
শ্রীলেখা নিজের বক্তব্যে আরও বলেন, ‘আমি অসম্ভব অহংকারী একজন মানুষ, তার থেকেও বেশি অহংকারী একজন অভিনেত্রী। আর সেই আমাকেই আপনারা এমন একটি বিভাগে মনোনীত করেছেন, যেখানে আমাকে না রাখলেই বরং আমার কাছে সেটি বেশি সম্মানের বিষয় হত। তারপরও যদি আপনারা আশা করেন যে ৪ অক্টোবর আমি আপনাদের অনুষ্ঠানে গিয়ে উপস্থিত হব, তা সম্ভব নয়। আমি নিজের আত্মসম্মান নিয়ে বাঁচি, তাই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ অভিনেত্রীর এই বক্তব্য থেকেই বোঝা যায়, মনোনয়ন নিয়ে তাঁর আপত্তি কতটা গভীর। তবে বিষয়টি নিয়ে তিনি পুরস্কার পাওয়ার জন্য কোনও দাবি করছেন না বলেই নিজের বক্তব্যে স্পষ্ট করেছেন। বরং তাঁর আপত্তি মূলত তাঁকে যে বিভাগে রাখা হয়েছে, সেই সিদ্ধান্তকে ঘিরে।
আরও পড়ুনঃ ওয়াইল্ড কার্ডে এন্ট্রি নিয়েই ‘বিগ বস’-এর খেলা ঘুরিয়েছেন জিতু ও রাজবীর, এবার নতুন চাল দিলেন তনুশ্রীও! পায়ের তলার মাটি শক্ত করতে কীভাবে গুটি বানালেন নন্দিনী-সৃজলাকে?
এর পাশাপাশি আয়োজক সংস্থাকে ইমেল করেও এখনও কোনও উত্তর পাননি বলে জানিয়েছেন শ্রীলেখা। তাঁর দাবি, ঘটনার দুদিন আগে তিনি নিজের অভিযোগ জানিয়ে আয়োজকদের কাছে ইমেল করেছিলেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সেই বিষয়ে তাঁর কাছে কোনও জবাব আসেনি। এই প্রসঙ্গে টলিউডের পুরস্কার অনুষ্ঠান এবং ক্ষমতাবানদের তোষণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিনেত্রী। তাঁর বক্তব্য, যাঁদের পুরস্কার দেওয়ার প্রয়োজন মনে হয়, তাঁদেরই দেওয়া হোক এবং তাঁকে এই প্রক্রিয়া থেকে বাদ রাখা হোক। নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে শ্রীলেখা বলেন, ‘যাঁদের দেওয়ার প্রয়োজন তাঁদের দিন, আমাকে এই বিষয় থেকে রেহাই দিন।’ মনোনয়নকে ঘিরে অভিনেত্রীর এই প্রকাশ্য প্রতিবাদ এবং পুরস্কার অনুষ্ঠান বয়কটের সিদ্ধান্ত এখন টলিপাড়ায় নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।






