“আমার মহাদেব জানেন, কাউকে শারীরিক বা মানসিক আ*ঘাত দিতে চাইনি!” মনামীর সঙ্গে দুর্ব্যবহারের জন্য প্রকাশ্যে হাতজোড় করে ক্ষমা চাইলেন জিতু কমল! ‘আজ আবার জিতুকে ভালো লাগল, অনুশোচনা যখন মন থেকে আসে, তার চেয়ে বড় প্রায়শ্চিত্ত আর কিছু হয় না’, ‘আমরা তো এই জিতুকেই চাই, জেনুইনলি নিজের ভুলটা বুঝতে পেরেছে’ এবার মন গলল দর্শকদের?

বিগ বস বাংলার ক্যাপ্টেন্সি টাস্ক ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কে এবার নতুন মোড়। কাঠের ঘোড়ায় বসে ক্যাপ্টেন হওয়ার লড়াইয়ে অংশ নিয়েছিলেন মনামী ঘোষ, জিতু কমল, সৃজলা গুহ, রাজবীর এবং তনুশ্রী। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিযোগীরা নিজেদের পছন্দের খেলোয়াড়কে রক্ষা করতে পারতেন। একইসঙ্গে অপছন্দের প্রতিযোগীকে ঘোড়া থেকে সরানোর চেষ্টাও করা যেত। তবে কাউকে ধাক্কা দিয়ে বা টেনে হিঁচড়ে ঘোড়া থেকে নামানো যাবে না বলেও স্পষ্ট নিয়ম ছিল। টাস্ক চলাকালীন প্রথমে নন্দিনী রাজবীরের ঘোড়া উল্টে দেন। এরপর সৃজলার সঙ্গে কথা বলার সময় তাঁর ঘোড়াটিও উল্টে যায় এবং মাটিতে পড়ে গিয়ে যন্ত্রণায় কাঁদতে ও চিৎকার করতে দেখা যায় সৃজলাকে।

ঘটনার পর সৃজলাকে বিশ্রাম ও চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। এই ঘটনা নিয়ে নন্দিনীর ভূমিকা ঘিরে প্রতিযোগীদের পাশাপাশি দর্শকদের একাংশের মধ্যেও ক্ষোভ তৈরি হয়। তবে একই টাস্কের আরও একটি দৃশ্য নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। সৃজলার ঘটনার পর জিতু, মনামী এবং তনুশ্রীকে নিয়ে খেলা এগিয়ে যায়। সেই সময় জিতুকে ঘোড়া থেকে নামানোর চেষ্টা করা হলেও তিনি শক্তভাবে বসে থাকায় তাঁকে সরানো সহজ হয়নি। পরে জিতু খেলা থেকে সরে গেলে মনামীকে নিয়েও শুরু হয় টানাটানি। প্রকাশিত দৃশ্যের বর্ণনা অনুযায়ী, মনামীকে ঘোড়াসহ টেনে হিঁচড়ে সরানোর চেষ্টা করা হয়েছিল, যদিও শেষ পর্যন্ত নিজের জায়গা ধরে রাখতে সক্ষম হন তিনি।

শেষ পর্যন্ত মনামী ও তনুশ্রী লড়াইয়ে টিকে থাকেন এবং ভোটাভুটির মাধ্যমে তনুশ্রী নতুন ক্যাপ্টেন নির্বাচিত হন। এরপরই দর্শকদের একাংশের প্রশ্ন, সৃজলা ঘোড়া থেকে পড়ে আহত হওয়ার ঘটনায় যদি নিয়ম নিয়ে এত আলোচনা হয়, তাহলে মনামীকে ঘোড়াসহ টেনে সরানোর চেষ্টাও কেন একইভাবে আলোচনায় আসবে না? তাঁদের বক্তব্য, ধাক্কা দিয়ে বা টেনে কাউকে ঘোড়া থেকে নামানোর অনুমতি যদি না থাকে, তাহলে সেই নিয়ম সবার ক্ষেত্রেই সমানভাবে মানা উচিত। নন্দিনীর ঘটনাকে ঘিরে যেমন প্রকাশ্যে সমালোচনা হয়েছে, তেমনই জিতু ও মনামীকে ঘিরে ওই দৃশ্য নিয়েও প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক বলে মনে করছেন তাঁরা। এই বিতর্কের মধ্যেই অবশ্য পরের পর্বে জিতু কমলের আচরণে দেখা যায় অন্য ছবি। সবার সামনে হাতজোড় করে নিজের আচরণের জন্য ক্ষমা চান তিনি। আর সেই ক্ষমা চাওয়াই এবার দর্শকদের একাংশের প্রতিক্রিয়ায় নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।

জিতু জানান, ঘটনার সময় মুহূর্তের উত্তেজনায় তিনি এমন আচরণ করে ফেলেছিলেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তিনি আসলে এমন মানুষ নন এবং কাউকে শারীরিক বা মানসিকভাবে আঘাত করার পক্ষপাতীও নন। তাঁর কথায়, বাইরে থাকা তাঁর অনুরাগী এবং মা-বাবাও এই ধরনের আচরণ দেখে লজ্জা পাচ্ছেন। তবে ইচ্ছা করে কাউকে আঘাত করার জন্য তিনি কিছু করেননি বলেও জানান অভিনেতা। সবার সামনে হাতজোড় করে ক্ষমা চেয়ে জিতু নিজের ভুল স্বীকার করেন এবং বোঝানোর চেষ্টা করেন যে ঘটনার জন্য তিনি নিজেও অনুতপ্ত। এই আচরণই দর্শকদের একাংশের নজর কাড়ে। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ মনে করছেন, ভুলের পর নিজের আচরণ নিয়ে প্রকাশ্যে অনুশোচনা দেখানোও একজন প্রতিযোগীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

জিতুর ক্ষমা চাওয়ার পর দর্শকদের একাংশের প্রতিক্রিয়াতেও তাই বদল দেখা যাচ্ছে। একজন দর্শক লিখেছেন, জিতুকে দেখে তাঁর মনে হয়েছে অভিনেতা সত্যিই মন থেকে কষ্ট পেয়েছেন। তাঁর মতে, নন্দিনীর আচরণ দেখে যে অনুভূতি হয়নি, জিতুর ক্ষমা চাওয়ার ক্ষেত্রে সেই আন্তরিকতাই চোখে পড়েছে। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে জিতুর আচরণ, রাজবীরকে মারধর করে হাসপাতালে পাঠানোর হুমকি এবং মনামীকে টেনে হিঁচড়ে সরানোর ঘটনা নিয়েও আগে তীব্র সমালোচনা হয়েছিল। তবে একই দর্শকের কথায়, “আজ আবার জিতু কমলকে ভালো লাগল। একজন নায়ককে নিয়ে একজন অনুরাগী যে মানুষটাকে দেখতে চান, আজ যেন সেই জিতুকেই আবার দেখা গেল।” তিনি আরও জানান, খারাপ আচরণের ক্ষেত্রে যেমন কঠোরভাবে সমালোচনা করেছেন, তেমনই এবার ভালো কিছু দেখায় প্রকাশ্যে প্রশংসা করতেও তাঁর আপত্তি নেই। অর্থাৎ সমালোচনার পাশাপাশি ভুল বুঝে অনুতপ্ত হওয়ার ঘটনাকেও গুরুত্ব দিতে চাইছেন দর্শকদের একাংশ।

আরও পড়ুনঃ “ওর কিছু কি আসল হতে পারে?” “ও কোথা থেকে এত আত্মবিশ্বাস পায়? কটা কাজ করেছে?” “যে ধামাকাটা করল, আমি থাকলে হাতাহাতি লেগে যেত!” ‘বিগ বস বাংলা’য় রাজবীরের আচরণে ক্ষু’ব্ধ মানসী, নন্দিনীকে নিয়ে প্রেমের গুঞ্জনেও দিলেন স্পষ্ট মত?

ওই দর্শকের আরও বক্তব্য, “আমরা এই জিতু কমলকেই চাই, অন্তত আমি চাই। আমি চাই না জিতু নিজেকে রাজবীরের মতো করে তুলুক। রাজবীর রাজবীরের মতো থাকুক, আর জিতু কমল নিজের মতোই থাকুক।” তাঁর মতে, শেষ সিদ্ধান্ত অবশ্য দর্শকদের হাতেই থাকবে। কে এই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকবেন এবং কার যাত্রা শেষ হবে, তা দর্শকরাই ঠিক করবেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন। জিতুর ক্ষমা চাওয়ার প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, “অনুশোচনা যদি সত্যিই মন থেকে আসে, তাহলে তার চেয়ে বড় প্রায়শ্চিত্ত আর কিছু হতে পারে না।” তিনি আরও বলেন, জিতুর আচরণ দেখে তাঁর সত্যিই মনে হয়েছে যে অভিনেতা নিজের ভুল বুঝতে পেরেছেন। ফলে ক্যাপ্টেন্সি টাস্কের পুরনো বিতর্কের মধ্যেই জিতুর প্রকাশ্য ক্ষমা চাওয়া নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দর্শকদের একাংশের কাছে এই ঘটনার গুরুত্ব এখন শুধু টাস্কের ভুল নয়, ভুলের পর একজন প্রতিযোগী কীভাবে নিজের আচরণের দায় নিচ্ছেন, সেটিও।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর