‘এমএলএ-র মাইনে কত?’ সায়নের প্রশ্নে হোঁচট খেয়ে ফোন করে জানতে হল সায়ন্তিকাকে! বরানগরে কী কী কাজ করেছেন, দিলেন তারও হিসেব

রাজনীতির ময়দান থেকে আপাতত দূরে অভিনেত্রী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে তাঁর রাজনৈতিক জীবন নিয়ে যে আলোচনা একেবারে থেমে গিয়েছে, তা নয়। বরং সম্প্রতি এক পডকাস্টে হাজির হয়ে সায়নের একের পর এক প্রশ্নের মুখোমুখি হতেই নতুন করে চর্চায় উঠে এলেন তিনি। অভিনেত্রী হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার পর রাজনীতিতে পা রেখেছিলেন সায়ন্তিকা। বরানগরের বিধায়ক হিসেবেও দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। কিন্তু বিধায়কের বেতন নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই কী উত্তর দিলেন সায়ন্তিকা? আর নিজের এলাকায় কাজের খতিয়ান দিতে গিয়ে কী কী জানালেন তিনি?

সঞ্চালক ও অভিনেতা সায়নের পডকাস্ট ‘অকপট’-এ অতিথি হয়ে এসেছিলেন সায়ন্তিকা। কথোপকথনের মাঝেই সায়ন সরাসরি জানতে চান, একজন বিধায়ক মাসে কত টাকা বেতন পান? প্রশ্ন শুনে সঙ্গে সঙ্গে নির্দিষ্ট অঙ্ক জানাতে পারেননি সায়ন্তিকা। বরং ফোন করে বিষয়টি নিশ্চিত করে নেন তিনি। এরপর জানান, একজন বিধায়কের মাসিক বেতন প্রায় ৬০ হাজার টাকা। সায়নের মন্তব্যের পর অবশ্য শুধু বেতনের অঙ্ক বলেই থেমে থাকেননি অভিনেত্রী। বিধায়কের দায়িত্ব এবং এলাকার উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ অর্থের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি।

আরও পড়ুন: ‘আমার শেষকৃত্যে কাউকে ডাকব না!’ মৃ’ত্যুর আগেই নিজের শেষযাত্রা নিয়ে এমন কথা কেন বলেছিলেন নানা পাটেকর?

সায়ন্তিকার কথায়, বিধায়কের কাজ শুধু মাসিক বেতন পাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এলাকার উন্নয়ন করাও তাঁর অন্যতম দায়িত্ব। তিনি জানান, বিধায়কেরা মাসে প্রায় ৬০ হাজার টাকা বেতন পান এবং এলাকার উন্নয়নের জন্য বছরে ৬০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ থাকে। এরপরই সায়ন জানতে চান, বরানগরের বিধায়ক থাকাকালীন সেই এলাকায় কী কী কাজ করেছেন সায়ন্তিকা। জবাবে নিজের কাজের তালিকা তুলে ধরেন অভিনেত্রী। তাঁর দাবি, অল্প সময়ের মধ্যেই এলাকায় একাধিক জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এলাকার সৌন্দর্যায়ন এবং বিভিন্ন জায়গায় সুসজ্জিত প্রবেশদ্বার তৈরির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের পরিষেবার দিকেও নজর দেওয়া হয়েছিল।

সায়ন্তিকা জানান, বরানগরে মানুষের সুবিধার জন্য অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা করা হয়েছিল এবং পানীয় জলের ফিল্টার বসানো হয়েছিল। পাশাপাশি, স্কুলপড়ুয়া মেয়েদের স্বাস্থ্যবিধির কথা মাথায় রেখে কয়েকটি স্কুলে স্যানিটারি প্যাডের ভেন্ডিং মেশিন বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সাধারণ স্কুলগুলিকে আরও আধুনিক করে তুলতে স্মার্ট ক্লাসরুম তৈরির কথাও জানান তিনি। নিজের কাজের প্রসঙ্গে সায়ন্তিকার বক্তব্য, দু’বছরের মধ্যে যতটা সম্ভব করার চেষ্টা করেছেন তিনি। আরও অনেক কাজের কথা বলার থাকলেও, সেগুলি এই মুহূর্তে সব মনে করতে পারছেন না বলেও জানান। তাঁর মতে, বরানগরের মানুষ জানেন, বিধায়ক থাকাকালীন তিনি কতটা কাজ করেছেন। পডকাস্টের এই কথোপকথন ঘিরেই এখন নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

আরও অন্যান্য খবর