সোপিয়ানে সেনাবাহিনীর গুলিতে মৃত ৩ জঙ্গি, আহত এক জওয়ান

গত এপ্রিল থেকে ভূস্বর্গ যেন নাশকতার জেরে অস্থির হয়ে রয়েছে। কাশ্মীরের নৈস্বর্গিক সৌন্দর্যকে বার বার চুরমার করে দিয়েছে গোলাগুলির শব্দ। রবিবার সকাল থেকেই আবার দক্ষিণ কাশ্মীরের সোপিয়ান এলাকা গুলির শব্দে উত্তপ্ত হয়ে রয়েছে।সেখানে সন্ত্রাসবাদীদের সাথে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর তীব্র সংঘর্ষের জেরে ৩ জঙ্গি মারা গেছে।

এ দিন সকাল ৮টা নাগাদ সোপিয়ানের রেবন অঞ্চলে শুরু হয় গুলির লড়াই। সিএপিএফ মুখপাত্র জানিয়েছেন, আগাম খবর অনুযায়ী ওই এলাকায় আত্মগোপন করে থাকা জঙ্গিদের সন্ধানে যান ভারতীয় সেনা এবং সিএপিএফ-এর যৌথবাহিনী। তাদের অভিযানের মধ্যেই আচমকাই সন্ত্রাসবাদীরা সেনাবাহিনীকে নিশানা করে গুলি চালাতে শুরু করে। যার পালটা জবাব দেয় সেনা জওয়ানরা। এই লড়াই সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চলে কিন্তু হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সাময়িক গুলিবর্ষণে বিরতি পড়লে ফের তল্লাশি শুরু করে নিরাপত্তাবাহিনী। যেখানে উদ্ধার হয়েছে তিন পরিচয়হীন জঙ্গির মরদেহ।কিন্তু তার মাঝেই আবার গোপন আস্তানা থেকে গুলি চালাতে শুরু করে জঙ্গিরা। ফলে এক জওয়ান আহত হয়েছেন। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, সংঘর্ষ এখনও জারি রয়েছে। পুলিশের দাবি, সন্ত্রাসীদের গুপ্ত ঠিকানায় এখনও বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসবাদী রয়েছে।

উল্লেখ্য, কিছু দিন আগে পুলওয়ামা জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে লড়াইতে তিন জঙ্গি মারা যায়। তার মধ্যে ছিল জইশ-ই-মহম্মদ গোষ্ঠীর এক কম্যান্ডার। জানা গিয়েছে, ওই ‘ফৌজি ভাই’ নামে মৃত জঙ্গি এর আগে আফগান যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল। বোমা তৈরির বিষয়ে সে অত্যন্ত নিপুণ। এমনকি পুলওয়ামায় গাড়িবোমা বিস্ফোরণের কর্মকর্তা ছিল এই সন্ত্রাসবাদী।

গত এপ্রিল মাস থেকে উপত্যকায় নাশকতাদমনের কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। মে মাসে হিজবুল মুজাহিদিন গোষ্ঠীর নেতা রিয়াজ নাইকু ছাড়াও মারা গিয়েছে আর এক হিজবুল কম্যান্ডার জুনেইদ সেহরাই। এপ্রিল মাস থেকে গত বুধবার পর্যন্ত এই বছরে এখনও কাশ্মীরে সংঘর্ষের জেরে মোট ৭৫ জন সন্ত্রাসবাদী মারা গেছে, জানিয়েছে পুলিশ।

আরও অন্যান্য খবর