এমনিতেই করোনার জেরে বিধ্বস্ত গোটা বিশ্ব। আমাদের বাংলাও এই ভয়াল রোগের হাত থেকে রেহাই পায়নি। তার উপর সঙ্গী হয়েছে আমফানের মত ঘূর্ণিঝড়। একরাতেই সে তছনছ করে দিয়ে গিয়েছে দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকাকে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি সংস্থা। সাধারণ মানুষও এগিয়ে এসেছেন। তেমনই ‘বাংলাপক্ষ’ নামে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষাকারী সংগঠনটিও এই মানুষগুলির সাহায্যে ঝাঁপিয়ে পড়েছে।

সম্প্রতি বাংলা পক্ষ (হুগলি জেলা ইউনিট) ও সুমঙ্গল ওয়েলফেয়ার সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে সুন্দরবনের আমফান আক্রান্ত শীতলিয়া গ্ৰামের প্রায় ৩২৫ টি পরিবারের হাতে সাধ্যমত সামান্য সাহায্য তুলে দিল।
গ্রামে পৌঁছে তারা যে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন দেখেন তা তারা সবার সামনে তুলে ধরেছেন। তাঁদের কথায়, “গ্রামটিতে পৌছে আমরা দেখতে পাই বাঁধ ভেঙে নোনা জল নষ্ট করে দিয়েছে বিঘের পর বিঘে জমি, ভেড়ির সব মাছ নোনা জলের প্রকোপে মরে গেছে, নষ্ট হয়ে গেছে ভেড়ির জল।” তাঁরা বলছেন, এই ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে জমি এবং ভেড়ি গুলি চাষবাস এবং মাছ চাষের উপযুক্ত করতে এক থেকে দু’বছর সময় লাগবে।

চিঁড়ে, বাতাসা, আলু, পেঁয়াজ, বিস্কুট, সুজির প্যাকেট, ছাতুর প্যাকেট, সোয়াবিনের প্যাকেট, সাবান, নুন, ORS, কিছু অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ এবং কেটে ছড়ে গেলে প্রয়োজনীয় মলম, ফাংগাল ইনফেকশনের জন্য প্রয়োজনীয় মলম, মোমবাতি দেশলাই তারাপৌঁছে দিয়ে এসেছেন। এছাড়াও দেওয়া হয়েছে ১০০০ টির বেশী নতুন জামা-কাপড়।

বাংলাপক্ষ জানিয়েছে, বাঙালিদের বিপদের দিনে বাঙালিকেই পাশে দাঁড়াতে হবে। দেশ বিদেশের বাঙালিরা তাঁদের পাশে যেভাবে দাঁড়িয়েছেন, তার জন তাঁরা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।





