করোনায় যারা মারা যাচ্ছেন তাদের দেহ অ্যাসিড দিয়ে পুড়িয়ে ফেলছে মমতা সরকার। এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। সম্প্রতি গড়িয়া শ্মশানের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। তাতে দেখা যায় মৃতদেহের চোয়ালে হুক বাঁধিয়ে শববাহী গাড়িতে তুলছেন এক ব্যক্তি। এই নিয়ে রীতিমত চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে নেটপাড়ায়। টুইট করে বিষয়টি নিয়ে স্বরাষ্ট্রসচিবের কাছে জবাবদিহিও তলব করেছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। ভাইরাল হওয়া এই চাঞ্চল্যকর ভিডিও নিয়েই বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন দিলীপবাবু।
তিনি অভিযোগ করেছেন যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মাওবাদীদের মৃতদেহের প্রতি সম্মান দেখান কিন্তু করোনায় মৃত ব্যক্তিদের দেহের প্রতি তার কোনো সম্মান নেই। বৃহস্পতিবার বিজেপির রাজ্য সদর দফতরে এক সাংবাদিক বৈঠকে এই নিয়ে সরব হন দিলীপবাবু। এখানেই তিনি বিস্ফোরক দাবি করেন যে করোনায় মৃতদের পরিচয় গোপন করতেই এই দেহ লুকিয়ে রাখা হচ্ছে এবং তারপরে তা অ্যাসিড দিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে।
এদিন দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘খুবই ভয়ঙ্কর, নির্মম, অমানবিক ঘটনা। ১৩টা লাশ প্রায় গলে গেছে। গড়িয়ার একটা শ্মশানে সেগুলো রাখা ছিল। আমরা তো বুঝতে পারছি না শ্মশানে কেন লাশ রাখা আছে। মৃতদেহ ও মর্গে থাকার কথা। সেখানেই সুরক্ষিত থাকবে।’ কী রহস্যজনক কারণে সেগুলি শ্মশানে রাখা ছিল?
তার সাফ বক্তব্য যে ভিডিও দেখে মানুষ যথেষ্ট ক্ষুব্ধ, মৃতদের প্রতি এহেন অপমান কেন? এই দেহগুলিকে হুক দিয়ে টেনে নেওয়া হচ্ছে ও নিয়ে যাওয়া হচ্ছে? শরীরের থেকে চামড়া খসে পড়ছে। মাস খানেকের বেশি পুরনো সেই লাশ। এভাবে আমরা লাশ রাখতে কোথাও দেখিনি।
তৃণমূল করোনা রোগীদের লাশ চুরি করছে বলে অভিযোগ করেছেন দিলীপবাবু। নন্দীগ্রামের ঘটনার সময় যেমন সিপিএম লাশ চুরি করেছিল বলে দাবি করেছিল বিজেপি সেরকমই বিজেপির এবারের দাবি তৃণমূল করোনা আক্রান্তদের লাশ চুরি করছে।
দিদিকে দিলীপবাবু পুরনো দিনের ঘটনাও মনে করিয়ে দিয়েছেন। ‘২০১০ সালে লালগড়ে এক অপারেশনে মৃত মাওবাদীদের দেহ বাঁশে বেঁধে নিয়ে গিয়েছিলেন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। তাই নিয়ে গোটা পশ্চিমবঙ্গ অচল করে দিয়েছিলেন মমতা। মাওবাদীদের প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যে শ্রদ্ধা ছিল রাজ্য সরকারের অপদার্থতার জন্য করোনায় মৃতদের প্রতি তার লেশমাত্র নেই। এটাই কি এগিয়ে বাংলা? আর ইনিই বাংলার গর্ব মুখ্যমন্ত্রী? শত্রুর মৃতদেহের প্রতিও কেউ এভাবে অসম্মান করে না।‘ রীতিমতো ক্ষোভে ফেটে পড়তে দেখা যায় দিলীপ ঘোষকে।
এরপরই চাঞ্চল্যকর দাবি করেন দিলীপ, ‘সম্ভবত লাশগুলো অ্যাসিড দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তাই শরীরের মাংস খুলে পড়েছে। পরিচয় লুপ্ত করতে এই কাজ করেছে সরকার। এই ধরণের অমানবিক ব্যবহার একটা সরকার কী করে করতে পারে? করোনায় মৃতদের দেহ লুকোতে গিয়ে এই কাজ করেছে সরকার।‘





