৭৪ তম স্বাধীনতা দিবস, ফিরে দেখা যাক ভারতের ২০০ বছরের পরাধীনতার ইতিহাস

২০২০ সালের ১৫ ই আগস্ট ভারতের ৭৪ তম স্বাধীনতা দিবস। আর স্বাধীনতা দিবস মানেই আমরা জানি ক্লাবে-ক্লাবে, স্কুলে-স্কুলে পতাকা উত্তোলন, শিশুদের কচকচানি, নানারকমের দেশাত্মবোধক অনুষ্ঠান ইত্যাদি। কিন্তু সালটা যে ২০২০, অন্যসব বছরের থেকে অনেকখানি আলাদা। এই সালেই যে সারা পৃথিবী করোনার করালগ্রাসে আবদ্ধ। তাই পুরনো অভ্যাস এর মত জমায়েত করা যাবে না। সব সরকারি অনুষ্ঠান এবারে ওয়েবকাস্টে হবে।

করোনার সুরক্ষাবিধির জন্য দিল্লির লাল কেল্লার স্বাধীনতা অনুষ্ঠানে যথেষ্ট কাটছাঁট করে আমন্ত্রিতদের সংখ্যা কমানো হয়েছে। এছাড়াও সৈনিকদের প্যারেড অনুষ্ঠান দেখতে দর্শকদের যাওয়া বাতিল করা হয়েছে।

এবার ফিরে দেখা যাক এই ২০০ বছরের পরাধীনতার ইতিহাস—
ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৬০০ খ্রিস্টাব্দে ভারতবর্ষে আসে ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য। প্রথমদিকে শুধুমাত্র বাণিজ্য করতে আসলেও, ইংরেজদের ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি পরবর্তীকালে ভারতবর্ষে তাদের আধিপত্য কায়েম করার দিকে অগ্রসর হয়। মুর্শিদাবাদের সিংহাসনে নবাব সিরাজউদ্দৌলা বসেছিল ১৭৫৬ খ্রিস্টাব্দে। বাংলা দখলের লড়াইয়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সাথে নবাবের বিরোধ শুরু হয়েছিল। পরে অবশ্য ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দের ৯ ই ফেব্রুয়ারি ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সাথে নবাবের ‘আলিনগরের চুক্তি’ স্বাক্ষর হয়েছিল। যদিও এই চুক্তির মাধ্যমেই ইংরেজরা নবাবের অনেক ক্ষমতা নিজেদের হস্তক্ষেপে করে নিয়েছিল। যদিও এরপর ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দের ২৩ শে জুন ইংরেজ কোম্পানি মিথ্যা অজুহাতে নবাব সিরাজ উদদৌলা এর সাথে পলাশীর যুদ্ধ সংঘটিত করেছিল। এই পলাশীর যুদ্ধ মূলত শুরু হয়েছিল নবাবের খাসপাত্র মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতায়। এই পলাশীর যুদ্ধে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির জয়লাভই ভারতে তাদের আধিপত্য কায়েমের গোড়াপত্তন করেছিল।

এরপর ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দের ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানি লাভ করেছিল। সিপাহী বিদ্রোহের সময় থেকেই ভারতের স্বায়ত্তশাসনের ভার ইংরেজ রাজ পরিবারের হাতে চলে যায়। ইংরেজদের হাত থেকে দেশকে স্বাধীনতা দেওয়ার জন্য বহু বিপ্লবী শহীদ হয়েছেন। দেশের জন্য তারা নিজেদের প্রাণ কে তুচ্ছ করে দেশের কাজে ব্রতী হয়েছিলেন। তাদের এই আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের ১৫ই আগস্ট ভারত তার বহু আকাঙ্খিত স্বাধীনতা লাভ করে। প্রায় ২০০ বছর পর ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারত থেকে বিতাড়িত হয় সম্পূর্ণরূপে।

স্বাধীনতা দিবসের গুরুত্ব—
১৯৪৭ সালের পর থেকে প্রত্যেক ১৫ই আগস্ট ভারতবাসী স্বাধীনতা দিবস পালন করে আসছে। স্বাধীনতা দিবস পালনের মাধ্যমে সমগ্র ভারতবাসীকে দেশের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মত্যাগকে সম্মান জানায়। কারণ তাদেরই আত্মবলিদান ভারতবাসীকে স্বাধীনতার মুক্ত আকাশ এনে দিয়েছে।

১৯৪৭ সালের ১৫ ই আগস্ট দিল্লির লালকেল্লায় জহরলাল নেহেরু স্বাধীন ভারতের প্রথম পতাকা উত্তোলন করেছিলেন। এরপর থেকে প্রতিবছরই লালকেল্লায় স্বাধীনতা দিবসের দিন পতাকা উত্তোলন হয় এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন।

কিন্তু এবারে করোনা ভাইরাসের বাড়বাড়ন্তের জন্য স্বাধীনতা দিবসের আনন্দ অনেকটাই ফিকে। সমবেত হয়ে দাঁড়িয়ে পতাকা উত্তোলনের সময় জাতীয় সংগীত উচ্চারণে গায়ে কাঁটা দেওয়া যে অনুভূতি লাভ করা যায় তা থেকে সকলেই এবারে বঞ্চিত হবে। যদিও বাড়ি বসেই স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের আর্জি জানানো হয়েছে। এ ছাড়াও বহু জায়গায় অনলাইনের মাধ্যমে স্বাধীনতা দিবসের বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে।

প্রতিবেদনটি লিখেছেন – অন্তরা ঘোষ

Khabor24x7

আমি শুভ, সঠিক খবর পরিবেশনের ইচ্ছায় হঠাৎই এই নিউজ পোর্টালটি শুরু করি। ধীরে ধীরে এরপর নিউজ পোর্টালটিতে আরও একাধিক ব্যাক্তি যুক্ত হন। এখন আমি নিউজ পোর্টালটির পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছি। এছাড়াও বিনোদন, কর্মক্ষেত্র, এবং অফবিট বিভাগে লিখতে পছন্দ করি। Email - info@khabor24x7dotcom.wpcomstaging.com

আরও পড়ুন

RELATED Articles

Leave a Comment