একুশে তৃণমূলকে করতে হবে রাজ্যছাড়া, ন্যাড়া হয়ে মন্দিরে যজ্ঞ করলেন সৌমিত্র খাঁ!

তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে গিয়েছিলেন সৌমিত্র খাঁ (Saumitra Khan)। বর্তমানে তিনি বিষ্ণুপুরের সাংসদ এবং দলেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন। তিনি যে দলের প্রতি কতটা অনুগত এবার বোঝা গেল তাঁর সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে। মাথা মুন্ডন করলেন সৌমিত্র খাঁ এবং যজ্ঞ করে ষাঁড়েশ্বর মহাদেবের কাছে রাজ্য থেকে তৃণমূল সরকার যাতে বিদায় হয় সেই সংকল্প করলেন বিষ্ণুপুরের সাংসদ। তাঁর এই আচরণে সকলেই যথেষ্ট বিস্মিত হয়েছেন তবে সৌমিত্র খাঁ আদৌ এই ঘটনায় একটুও বিচলিত নন।

দলের প্রতি তিনি দায়িত্বশীল তাই বিজেপির জন্য তিনি সবকিছু করতে পারেন বলেই জানিয়েছেন। এছাড়াও দলের যুব কর্মীদের হাতে তিনি তুলে দিলেন ত্রিশূল কারণ ত্রিশূল কে তিনি লড়াইয়ের ময়দানে নামার প্রতীক বলে উল্লেখ করেছেন।

আজ শ্রাবণ মাসের শেষ সোমবার। এইদিন সাতসকালে বিষ্ণুপুরের সাংসদ দলীয় কর্মীদের নিয়ে বিষ্ণুপুরের ডিহর গ্রামের প্রাচীন ষাঁড়েশ্বর শিবের মন্দিরে পৌঁছান৷ প্রথমেই সেখানে তিনি নিজের মস্তক মুণ্ডন করেন এবং তারপর স্নান সেরে পৌঁছে যান শিব মন্দিরে। সেখানে দীর্ঘক্ষন ধরে যজ্ঞ করেন তিনি। এরপর দলের যুব মোর্চা কর্মীদের হাতে তিনি ত্রিশূল তুলে দেন। তবে শুধু সৌমিত্র খাঁ একা নন তার সঙ্গে দলের আরও নয় জন মাথা মুন্ডন করেন এই দিন।

পরে সৌমিত্র বাবু জানান যে, রাম মন্দিরের ভূমি পুজোর দিন রাজ্য সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে লকডাউন ঘোষণা করে রাজ্যবাসীকে রামের পুজো করতে বাঁধা দিয়েছে। আগামী বছর বিধানসভা নির্বাচনে এই অন্যায়ের উত্তর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পেয়ে যাবেন। এরপর দলের যুব কর্মীদের হাতে আত্মরক্ষার জন্য ত্রিশূল তুলে দেন বিষ্ণুপুরের সাংসদ।

সম্প্রতি খানাকুলে তৃণমূলের হাতে বিজেপি নেতা খুনের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন যে, দলের নেতাকে জাতীয় পতাকা তুলতে গিয়ে যেভাবে খুন হতে হলো তার মোকাবিলা করার জন্য সারা রাজ্যে যুব মোর্চার হাতে নব্বই হাজার ত্রিশূল তুলে দিচ্ছি। এতে অশুভ শক্তির বিনাশও হবে এবং আত্মরক্ষার কাজেও লাগবে এই ত্রিশূল।

স্বাভাবিকভাবেই বিজেপি নেতার এই পদক্ষেপে শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। তৃণমূলের বক্তব্য, সস্তা জনপ্রিয়তা পেতে এই কাজ করেছেন বিষ্ণুপুরের সাংসদ আবার বিজেপি সদস্যরা বলছেন, সাহস আছে বটে সৌমিত্র বাবুর!

আরও অন্যান্য খবর