করোনা জেরে গতও ছ’মাস ধরে বন্ধ লোকাল ট্রেন। রেলকর্মীদের জন্য স্পেশাল ট্রেন চললেও তা জনসাধারণের জন্য নয়। বৃহস্পতিবার সকালে সোনারপুর স্টেশনে একটি স্পেশাল ট্রেনে সাধারণ যাত্রীদের নামাতে গিয়ে শুরু হয় এক ধুন্ধুমার কাণ্ড। ক্ষিপ্ত যাত্রীরা ট্রেন লক্ষ্য করে ছুঁড়তে থাকে ইট পাথর। এর জেরে আহত হন কিছু আরপিএফ পুলিশকর্মী।
অতিমারিতে লোকাল ট্রেন বন্ধ থাকলেও রেলকর্মীদের জন্য বরাদ্দ রয়েছে কিছু স্পেশাল ট্রেন। এই ট্রেনে সাধারণ যাত্রী উঠতে পারে না। কিন্তু জীবিকার তাগিদে পুলিশরক্ষীদের এক রকম ফাঁকি দিয়েই ওই স্পেশাল ট্রেনে ওঠে পড়ে নিত্যদিনের যাত্রী। এই খবর পেয়ে আরপিএফ কর্মী সোনারপুর স্টেশনে ট্রেনটি আটকান। ট্রেনটি বারুইপুর থেকে শিয়ালদহের দিকে যাচ্ছিল। এরপরই ট্রেনে উঠে শুরু হয় চেকিং। সাধারণ যাত্রীদের ট্রেন থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। এরপরই শুরু হয় তাণ্ডব। ক্ষিপ্ত জনতা পুলিশ ও ট্রেনকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি ইট ছুঁড়তে থেকে। চালকের কেবিনেও হামলা করা হয় বলে অভিযোগ। ভাঙচুর চলতে থাকে ট্রেনে। কেবিনের কাঁচও ভাঙা হয়।
এই ঘটনার জেরেই আহত হন বেশ কিছু আরপিএফ পুলিশকর্মী। প্রথমের দিকে বেশি নিরাপত্তারক্ষী না থাকায় ঘটনা চরমে ওঠে। এরপর আরও পুলিশকর্মী ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পরিস্থিতি বাগে আসে। এই ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। এদিন এক সাধারণ যাত্রীকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, কাজের জন্য দেরী হয়ে যাচ্ছিল, তাই কিছু না ভেবেই উঠে পড়ি ট্রেনে। সাইকেল নিয়েই ট্রেনে সওয়ার হন ওই যাত্রী।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, করোনা কালে এখন রোজই এরকম স্পেশাল ট্রেন চলছে রেলকর্মীদের জন্য। কয়েকদিন ধরেই খবর ছিল স্পেশাল ট্রেনে সাধারণ যাত্রীদেরও ভিড় হচ্ছে। প্রতিদিনই তাদের ট্রেন থেকে নামিয়ে দেওয়া হচ্ছিল কিন্তু আজকে পরিস্থিতি লাগামছাড়া হয়ে যায়।
করোনা সংক্রমণ এড়াতেই বন্ধ রাখা হয়েছে লোকাল ট্রেন। কিন্তু বিভিন্ন স্টেশন থেকে সাধারণ যাত্রী এই স্পেশাল ট্রেনে উঠে ঠাসাঠাসি করে যাতায়াত করছে, এভাবে করোনার স্বাস্থ্যবিধিই লঙ্ঘন করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন রেলপুলিশ।





