“যখন বোমা মজুত করা হচ্ছিল তখন তো আটকাননি” বেলেঘাটা বিস্ফোরণে এনআইএ তদন্তের দাবী লকেট চট্টোপাধ্যায়ের

মঙ্গলবার সকালে ঘড়িতে তখন সাড়ে ছ’টা, এক বিকট আওয়াজে কেঁপে উঠে বেলেঘাটা গান্ধী মাঠের এলাকা। বেলেঘাটার গান্ধীমাঠ ফ্রেন্ডস সার্কেল ক্লাবের তিনতলার ঘরে ঘটে এক ভয়াবহ বিস্ফোরণ। বিস্ফোরণে শব্দে কেঁপে ওঠে চারিদিক। এর জেরে উড়ে যায় ক্লাবের অ্যাসবেস্টসের ছাদ, ভেঙে পড়ে দেওয়াল। প্রায় ৪০ ফুট দূরে ছিটকে পড়ে ইটের টুকরো। বিস্ফোরণের তীব্রতা এত বেশী ছিল যে ৬০ ফুট দুরত্বের একটি বাড়ির কাচের জানলা ভেঙে পড়ে। এরপরই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। দেখা যায় চারিদিকে ছড়িয়ে রয়েছে বারুদের চিহ্ন। ডাকা হয় বম্ব ডিস্পোজাল স্কোয়াড, স্নিফার ডগ দিয়ে চালানো হয় তল্লাশি।

ক্লাবের এক সদস্যের দাবী, সকালবেলা বাইকে চড়ে দুজন আসে ওই ক্লাবের সামনে, এরপরই তারা বোমা ছুঁড়ে পালায়। কিন্তু এই দাবী সম্পূর্ণ নাকোচ করে দিয়েছে ফরেনসিক দলের সদস্য। তাদের দাবী, বাইরে থেকে কোনওরকম বিস্ফোরক ঘটানো হয়নি বরং ক্লাবের ভেতরে মজুত থাকা বোমাতেই এই বিস্ফোরণ ঘটেছে। ঘটনাস্থল থেকে স্প্লিনটার, সুতলি ও বোমা তৈরির সরঞ্জামও উদ্ধার করা হয়েছে।

এই ঘটনার প্রতিবাদে এদিন বিকেলবেলা সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ফুলবাগান থেকে গান্ধীভবনের দিকে রওনা দেয় বিজেপির মিছিল। কিন্তু ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই সেই মিছিল আটকে দেয় পুলিশ।

এই বিষয়ে লকেট চট্টোপাধ্যায় জানান বাংলার গর্ব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সময়ে কোনও ক্লাবে এমন বোমার উৎক্ষেপণ নজিরবিহীন ঘটনা। তার দাবী, দুর্গাপুজোর জন্য মুখ্যমন্ত্রী ক্লাবগুলিকে যে ৫০ হাজার টাকা করে দিয়েছেন, তা নিছকই এই বোমা তৈরির কাজে লাগাতে। লকেটের মতে, মুখ্যমন্ত্রী চান ২০২১-এর ভোটে জনতার সমর্থনে তারা এঁটে উঠতে না পারলে, তখন এই বোমা দিয়েই তাদের ভোটে জয়ী হতে হবে।

পুলিশ বিজেপির মিছিলে বাধার সৃষ্টি করলে লকেট চট্টোপাধ্যায় বলেন, “যখন ক্লাবের মধ্যে ওরা বোমা তৈরি করছিল, তখন তো ওদের আটকাতে পারেন নি, তাহলে এখন আমাদের আটকাচ্ছেন কেন? যখন বোমা তৈরির সরঞ্জাম আসছিল, তখন আপানারা পাহারা দেন নি, তখন সব গুন্ডা মস্তান জড়ো করে রেখেছিলেন”। এই বিস্ফোরণের জন্য তিনি যে এনআইএ-এর তদন্ত চান, এ কথাও স্পষ্ট করে জানান দেন সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়। এনআইএ-এর এই রিপোর্ট তারপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে পাঠানোর দাবীও করেন তিনি।

অন্যদিকে, রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম পাল্টা জবাবে বলেন, পশ্চিমবঙ্গ গুজরাট বা উত্তরপ্রদেশ নয় যে সরকার পক্ষপাতিত্ব করবে, নিরপেক্ষ তদন্ত করে আইন অনুযায়ীই সবরকম ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে বেলেঘাটা থানা। পুলিশ সূত্রের খবর, এই গোটা ঘটনায় ক্লাবের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আরও অন্যান্য খবর