সমগ্র দেশে এখন ‘লাভ জেহাদ’ নিয়ে বিতর্ক চলছে। এরই মাঝে এলাহাবাদ কোর্ট জানিয়েছিল ধর্মনির্বিশেষে নিজের পছন্দের সঙ্গীর সঙ্গে জীবন কাটানো যে কোনও প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের অধিকার। এবার একটি মামলার প্রসঙ্গে দিল্লি হাইকোর্টও এই একই রায় দিল। দিল্লি হাইকোর্টের মতে, কোনও প্রাপ্তবয়স্ক মহিলা নিজের ইচ্ছামতো কারোর সঙ্গে থাকতে পারেন বা বিয়ে করতে পারেন। এই ক্ষেত্রে পরিবারের জোর করার কোনও অধিকার নেই।
গত সপ্তাহে হিন্দু যুবতী প্রিয়াঙ্কা ও মুসলিম যুবক সালামাতের বিয়ে নিয়ে একাধিক বিতর্ক উঠে। সেই মামলার শুনানিতে এলাহাবাদ কোর্টের বিচারপতি রায় দেন, দু’জন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের অধিকার রয়েছে নিজেদের জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়ার। তাদের এই ব্যক্তিগত সম্পর্কে আদালত কোনও হস্তক্ষেপ করে না বলেই জানিয়েছিল।
এর আগে সেপ্টেম্বর মাসে এক পরিবার অভিযোগ আনে যে, তাদের নাবালিকা মেয়েকে বাব্লু নামের একজন অপহরণ করে জোর করে বিয়ে করেছে বাবলু নামের এক যুবক। এরপর থেকে মেয়েটির কোনও খোঁজ মিলছিল না। এই ঘটনারই শুনানি ছিল আজ দিল্লি হাইকোর্টে। এদিনের মামলায় জানা যায়, মেয়েটি নাবালিকা নন। তার বয়স ২০ বছর। এদিন তাকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দিল্লি হাইকোর্টে পেশ করা হয়। এদিনের শুনানিতে বিচারপতি বিপিন সাংভি ও রজনীশ ভাটনাগরের এজলাসে তিনি জানান, তিনি নিজের ইচ্ছাতেই বাবলুর সঙ্গে চলে গিয়েছিলেন এবং তাকে বিয়ে করেছেন। পরিবারের লোকজনের আপত্তি থাকা সত্ত্বেও এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
তার এই জবানবন্দী শুনে হাইকোর্ট বলে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় যার সঙ্গে খুশি থাকার বা যাকে খুশি বিয়ে করার অধিকার আছে ওই মহিলার। এছাড়াও, কোর্ট জানায় যে মেয়ে-জামাইয়ের উপর কোনওরকম জোরজবরদস্তি চলবে না। পুলিশকেও নির্দেশ দেওয়া হয় যাতে ওই দম্পতির নিরাপত্তা প্রদান করার জন্য। আইনজীবী মহলের একাংশের মত, এ ধরনের রায় নিশ্চিন্তে মানুষের মৌলিক অধিকার পালনের পথ প্রশস্ত করে দেবে।





